ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের কৃষক হাজী সরল মিয়া পুকুরের পতিত পাড়কে সারা বছরের ফসলি জমিতে বদলে দিয়ে খাদ্য উৎপাদন ও বাড়তি আয়ের পথ দেখিয়েছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পানির ওপর ভাসছে ঢেঁড়সের গাছ আর হলুদাভ ফুল।
সরল মিয়া জানান, ৫ দশমিক ৫ একর (৫৫০ শতাংশ) জমিতে কাটা পুকুরে তিনি দেশীয়সহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ করেন। বিশাল পুকুরের প্রায় এক একর (১০০ শতাংশ) পাড় পরিত্যক্ত থাকায় প্রতিবছর ব্যাপক আগাছা জন্মাত, তা পরিষ্কার করতেই বছরে লাখ টাকা খরচ হতো; আগাছার ভেতরে ক্ষতিকর প্রাণীর আশ্রয় হতো এবং ইরি-বোরো মৌসুমে ইঁদুর পাড় কেটে ক্ষতি করত।
এবার সেই পাড়ে ঢেঁড়স চাষ করা হয়েছে; মাঝেমধ্যে ডাটা ও পুঁইশাক, সঙ্গে আম, জলপাই ও খেজুর গাছ। করলা, মরিচ, শশা, কুমড়া, মিষ্টি লাউ, শীত লাউ ও বরবটিসহ মৌসুমি শাকসবজিও হচ্ছে। সরল মিয়ার হিসাবে, এ বছর ঢেঁড়স চাষে খরচ প্রায় ৬৫ হাজার টাকা; মাছ দেখার দুজন শ্রমিকই ফাঁকে ফাঁকে ঢেঁড়সের যত্ন নেন। ইতোমধ্যে ১৮০ মণ ঢেঁড়স বিক্রি হয়েছে, আরও ২০০-২৫০ মণ উঠবে; বর্তমান বাজারদরে আয় দাঁড়াবে প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা। পুকুরপাড়ের ঢেঁড়সে সার লাগে না, কীটনাশকও তেমন দিতে হয় না বলে জানান তিনি।
তাকে দেখে পাশের মৎস্যচাষি রাসেল মিয়া নিজের পুকুরপাড়ে পেঁপে, করলা ও কলাগাছ লাগিয়েছেন; কৃষক আব্দুল মোতালিব, হাসমত আলী ও আবুচানও পাড়ে শশা ও লাউ চাষ শুরু করেছেন। গৌরীপুর পৌরসভার ব্যবসায়ী মো. ফিরোজ মিয়ার মতে, সব পুকুরের পাড় এভাবে ফসলি জমিতে পরিণত করলে হাজার হাজার একর পতিত জমি উৎপাদনে আসবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কাওসার আহমেদ বলেন, সমন্বিত চাষে পুকুরপাড়ে ফসল উৎপাদন নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে; সরল মিয়া একই সঙ্গে ফসল ও মৎস্যচাষি—পুকুরের পানিতে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকা, পর্যাপ্ত রোদ, পাড়ের উর্বর মাটি ও নিবিড় পরিচর্যায় অল্প সময়ে বাম্পার ফলন হয়েছে।
গত বছর ঢেঁড়সের আঁশ উৎপাদন করে আলোচনায় আসা সতিষা গ্রামের কৃষক আব্দুল মোতালিব জানান, সরল মিয়ার পুকুরপাড়ের লম্বা ঢেঁড়সগাছ পচিয়ে আঁশ সংগ্রহ করা সম্ভব; মাত্র এক শতাংশ জমির ১২০-১৩০টি গাছ থেকে তিনি প্রায় দেড় কেজি আঁশ পেয়েছিলেন, যা পাটের আঁশের চেয়েও সুন্দর ও মজবুত এবং দড়ি বা পাটজাতীয় পণ্যে ব্যবহারযোগ্য।
দেশের লাখো পুকুরের পাড় বছরের বেশির ভাগ সময় পড়ে থাকে; মাছ চাষের পাশাপাশি সেই পাড়ে সবজি তুললে খরচের খাত আয়ের খাতে বদলে যায়—গৌরীপুরের এই উদাহরণ ছোট মৎস্যচাষিদের জন্য সহজে অনুসরণযোগ্য।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)