গ্যাসের চুলার আগুন স্বাভাবিকভাবে নীল হয়। শিখা যদি একটানা কমলা বা হলুদ হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে গ্যাস পুরোপুরি পুড়ছে না, আর তা থেকে ঘরে কার্বন মনোক্সাইড জমতে পারে। প্রথম আলোর কিশোর আলোয় শিউলী সুলতানার লেখায় রিডার্স ডাইজেস্টের বরাতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাস ঠিকমতো পুড়লে শিখা নীল হয়, মাথায় হালকা সাদা আভা থাকতে পারে; লিকুইড প্রোপেন গ্যাসে মাথায় সামান্য হলুদ আভা থাকা স্বাভাবিক। নীল রং মানে গ্যাস সম্পূর্ণ পুড়ে তাপ, জলীয় বাষ্প ও কার্বন ডাই-অক্সাইড হচ্ছে। এমন শিখার তাপমাত্রা প্রায় ১ হাজার ৯২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত হতে পারে।
বার্নার নোংরা হলে, ছিদ্র বন্ধ থাকলে বা গ্যাস ও বাতাসের মিশ্রণ ঠিক না হলে শিখা কমলা বা হলুদ হয়। লেখায় বলা হয়েছে, ঠিকঠাক চুলার আশপাশে কার্বন মনোক্সাইড থাকে ৫ থেকে ১৫ পিপিএম, নষ্ট চুলায় তা ৩০ পিপিএম বা তার বেশি হতে পারে। বর্ণহীন ও গন্ধহীন এই গ্যাস শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। নষ্ট চুলা থেকে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও বেনজিনের মতো যৌগও বেশি বের হয়, আর একই তাপ পেতে গ্যাস লাগে বেশি।
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণার বরাতে লেখায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের হাঁপানির প্রায় ১৩ শতাংশের সঙ্গে গ্যাসের চুলা সরাসরি যুক্ত। অপচয় ও বিপদ, দুই কারণেই সারাক্ষণ চুলা জ্বালিয়ে রাখা ঠিক নয়।
অল্প কমলা আভা মাঝে মাঝে বাতাসের ধুলা বা খনিজ পোড়ার কারণেও দেখা যায়। শিখা লাল হলে গ্যাসের মানে সমস্যা থাকতে পারে; ঘরে হিউমিডিফায়ারের জলীয় বাষ্পে পটাশিয়াম থাকলে শিখা বেগুনি দেখাতে পারে, যা বিপজ্জনক নয়।
করণীয় হিসেবে বলা হয়েছে: চুলার সব নব বন্ধ করে বার্নারের ক্যাপ ও হেড খুলে পেপার ক্লিপ দিয়ে ছিদ্র পরিষ্কার করতে হবে; কাঠের টুথপিক নয়, কারণ ভেঙে আটকে যেতে পারে। অংশগুলো পানিতে ভিজিয়ে না রেখে হালকা ভেজা কাপড়ে মুছে পুরোপুরি শুকিয়ে লাগাতে হবে। এরপরও শিখা হলুদ বা কমলা থাকলে, কিংবা গ্যাসের গন্ধ পেলে চুলা বন্ধ রেখে দ্রুত একজন টেকনিশিয়ান ডাকতে হবে।
ছবি: Federico Cardoner / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)