জুমার দিন মুসলিমদের কাছে বিশেষ মর্যাদার দিন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এ দিনে এমন একটি সময় আছে, কোনো মুসলিম বান্দা তখন নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তা দান করেন; হাতের ইশারায় তিনি বুঝিয়েছিলেন, সময়টি খুবই অল্প (সহিহ বুখারি, ৯৩৫)।
আলেমরা এই সময় হিসেবে খুতবা শুরু থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। সময়টি নির্দিষ্ট করে জানা না থাকায় দিনের বিভিন্ন সময়ে আন্তরিকভাবে দোয়া, ইস্তিগফার ও জিকির করাই উত্তম বলে লেখায় বলা হয়েছে। এ দিনে নিজের প্রয়োজন, গুনাহের ক্ষমা, হেদায়াত ও কল্যাণ চাওয়া যায়, পড়া যায় কোরআনে শেখানো দোয়াও।
প্রথমটি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের দোয়া, সূরা আল-বাকারার ২০১ নম্বর আয়াত: 'রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।' অর্থ, হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ছোট এই দোয়ায় দুনিয়ার শান্তি আর আখেরাতের মুক্তি দুটোই চাওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়টি হেদায়াত পাওয়ার পর অন্তর সঠিক পথে রাখার দোয়া, সূরা আলে ইমরানের ৮ নম্বর আয়াত। এর অর্থ, হে আমাদের রব, হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তর বক্র করে দেবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।
তৃতীয়টি গুনাহ মাফ ও নেককারদের সঙ্গে উত্তম পরিণতি চাওয়ার দোয়া, সূরা আলে ইমরানের ১৯৩ নম্বর আয়াত। অর্থ, হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন, আমাদের পাপ মোচন করুন এবং নেককারদের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দিন।
চতুর্থটি নিজের, বাবা-মা ও সব মুমিনের জন্য দোয়া, সূরা ইবরাহিমের ৪০ ও ৪১ নম্বর আয়াত। অর্থ, হে আমার রব, আমাকে ও আমার বংশধরদের নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী করুন; হে আমাদের রব, আমার দোয়া কবুল করুন; হিসাবের দিনে আমাকে, আমার বাবা-মাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন।
লেখাটি আর টিভি অনলাইনের ধর্ম বিভাগের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Ehsanul Siddiq Aranya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আর টিভি অনলাইন


মন্তব্য
(০)