সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩২°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৬৫%বাতাস কিমি/ঘ

মিঠাপানির মাছে আকাল কেন: ঢাকার বাজারের ৫০–৬০ শতাংশ আমদানি বা চাষের, ৪০ বছরে মুক্ত জলাশয় কমেছে ৩৪.৫ শতাংশ, ৬৪ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে

মৎস্য অধিদপ্তরের খাতায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের উৎপাদন ১৯৮৩-৮৪-এর ৪.৭২ লাখ টন থেকে দ্বিগুণের বেশি, অথচ কারওয়ান বাজার-যাত্রাবাড়ীতে দেশি মাছ দুর্লভ; ২০২৪-এ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৫৯.৭ লাখ কেজি হিমায়িত রুই-কাতলা আমদানি; কর্মকর্তারা দুষছেন ফারাক্কা ও নদীর প্রবাহহীনতাকে, বিএফআরআই কৃত্রিম প্রজননে বিপন্ন প্রজ

মৎস্য

নদী, খাল-বিল ও হাওরের দেশি মিঠাপানির মাছ রাজধানীর বাজারে এখন দুর্লভ; কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী মৎস্য আড়ত, গুলশান ডিএনসিসি, মহাখালী ও তেজগাঁও সমিতিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুঁটি, মলা, গুতুম, চিংড়িগুঁড়া ও ট্যাংরার মতো অল্প কয়েকটি ছাড়া প্রায় ৫০–৬০ শতাংশ মাছই আমদানি করা বা চাষের; বড় বাইম, আইড় ও চিংড়িও আমদানিনির্ভর। ঢাকা থেকে কিনে সাভারে বিক্রি করা ছোট মাছ ব্যবসায়ী হায়দার আলী বলেন, নদী-খাল-বিলের দেশি মাছ খুব কম, ট্যাংরা-মলা-চিংড়ির বেশিরভাগই চাষের।

মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে মুক্ত জলাশয় থেকে মিঠাপানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়; দেশে মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মধ্যে ছোট মাছ ১৪৩টি, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ ভাগ, আর ৬৪ প্রজাতি হারিয়ে যেতে বসেছে। ১৯৮৩-৮৪ ও ২০২৩-২৪-এর বার্ষিক প্রতিবেদন মিলিয়ে প্রাকৃতিক জলাশয়ের উৎপাদন ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৫ টন থেকে ১৯৯৩-৯৪-এ ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৩৭৬, ২০০৪-এ ৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৭ ও ২০১৪-তে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৫ টনে উঠেছে—অথচ বাজারে প্রাকৃতিক মাছ কম। গত ৪০ বছরে মুক্ত জলাশয় কমেছে ৩৪.৫ শতাংশ: ১৯৮৩-৮৪-এ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় ছিল ৬২.৫৯ শতাংশ, ২০২৩-২৪-এ ২৮.৯ শতাংশ।

বিভাগে বিভাগে একই চিত্র। ময়মনসিংহের পুরোনো ব্রহ্মপুত্র, কংস ও হাওর-বিলে জলাশয় ভরাট, দূষণ ও অতিরিক্ত আহরণে নান্দিনা, ভাঙনবাটা, পিয়ালী, নাপিত কৈ ও মহাশোল প্রায় বিলুপ্ত, যদিও বিএফআরআই কৃত্রিম প্রজননে পাবদা, গুলশা, ট্যাংরাসহ কয়েকটি প্রজাতি ফিরিয়ে আনছে। খুলনার তেরখাদার চিত্রা ও ভূতিয়ার বিলে ৪০–৫০ প্রজাতির অনেকগুলো হারাতে বসেছে; বরিশাল সদরের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন বলেন, রয়না, সরপুঁটি, বাইম ও পাবদা বিলুপ্তির পথে, কৈ-শিং-মাগুর-শোলও দুষ্প্রাপ্য। রংপুরে তিস্তা-ঘাঘটে শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় আবাস নষ্ট হচ্ছে, সুনামগঞ্জের হাওরে অতিরিক্ত রাসায়নিক, প্রজনন মৌসুমে নিধন ও চায়না দুয়ারি জালকে দুষছেন স্থানীয়রা।

উরুগুয়ে, দুবাই, ওমান, ইয়েমেন, ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে মাছ আসে; ভারত ও মিয়ানমার থেকে রুই-কাতলাসহ মিঠাপানির মাছ বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হিমায়িত রুই-কাতলা আমদানি হয়েছে ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৩ কেজি, শুল্কায়ন মূল্য ৬৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বেশি। ডব্লিউডব্লিউএফ ও লন্ডন জুলজিক্যাল সোসাইটির ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস ফরগটেন ফিশেস’ প্রতিবেদনে বিশ্বের মিঠাপানির এক-তৃতীয়াংশ মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে, ৮০ প্রজাতি বিলুপ্ত; বাংলাদেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ মিঠাপানির।

ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ২০১৫ সালে ২৫৩ প্রজাতির ওপর গবেষণায় ৬৪টি বিপন্ন, সংকটাপন্ন বা মহাবিলুপ্তির পথে পাওয়া যায়; ২০২৬-এ নতুন গবেষণা চলছে। মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ শাখার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মঈন উদ্দিন আহমদ আমদানিকে মুক্তবাজারের স্বাভাবিকতা বললেও শাখার উপপরিচালক মোল্লা ইমদাদুল্লাহর মতে মূল সমস্যা নদীতে প্রবাহ না থাকা—ফারাক্কা বাঁধে প্রবাহ কম, অনেক নদী শুকিয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, পানি সমস্যার সমাধানে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে; প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে উৎপাদন বাড়বে না।

প্রতিদিনের বাংলাদেশের ফারুক আহমাদ আরিফের প্রতিবেদন (রংপুর, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও ধর্মপাশার প্রতিবেদকদের সহযোগিতায়) অবলম্বনে। সূত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

প্রতিদিনের বাংলাদেশদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

ভরা মৌসুমেও ইটনার হাওরে মাছের আকাল: আড়তদারদের হিসাবে সরবরাহ ১১ কোটি থেকে নেমে ৩ কোটি টাকায়, দাম কেজিতে ২০০–৩০০ টাকা বেশি

কিশোরগঞ্জের ইটনা মৎস্য অফিসের হিসাবে প্রাকৃতিক জলাশয়ের উৎপাদন ২০২২-২৩-এর ৯,০১৪ টন থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬-এ ১৪,৫৩৬ টন হলেও জেলেরা বলছেন গলদা, কাজলি, রুই, বাতাসি, বাছা, রিটা ও আইড় আগের ২৫ শতাংশও মিলছে না; নিষিদ্ধ জাল, ডুবুবাঁধ, নাব্যতা হ্রাস ও কীটনাশককে দুষছেন তাঁরা।

কৃষি সময়১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

ডুমুরিয়ায় ২০ প্রজাতির রঙিন মাছের হ্যাচারি, অল-মেল গলদা ও ঘেরের আইলে সবজি—রাহুলের সমন্বিত খামারে বছরে ১৫–২০ লাখ টাকা মুনাফা

খুলনার বান্দা গ্রামে ‘বিশ্বাস এগ্রো প্রজেক্ট ও মৎস্য হ্যাচারি’তে তিন হাউস ও ছয় পুকুরে মলি, গাপ্পি, গোল্ডফিশ, অ্যাঞ্জেল, কৈ-কার্পসহ প্রায় ২০ প্রজাতির পোনা, জোড়া বা পিস ২০–২০০ টাকা, খালিশপুর থেকে কাটাবন পর্যন্ত ক্রেতা; ১৬ বিঘায় ৯ পুকুরের ৮টিতে অল-মেল গলদা, ছয়জনের কর্মসংস্থান।

বাসস১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

ঘাসি নদীর ইজারা নিয়ে মধ্যনগরে মৎস্যজীবী সমিতির অভিযোগ, ক্ষতি পাঁচ লাখ টাকার শঙ্কা

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে তিন বছরের জন্য ইজারা নেওয়া ঘাসি নদীর দ্বিতীয় খণ্ডের একটি অংশ দখলের চেষ্টা ও চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ এনে ইউএনওর কাছে ই-মেইলে অভিযোগ দিয়েছে হামিদপুর বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।

সমকাল১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()