প্যারিসভিত্তিক অণুশৈবাল স্টার্টআপ এদোনিয়া (Edonia) দেড় কোটি ইউরো (১ কোটি ৬৮ লাখ ডলার) তহবিল সংগ্রহ করেছে। এই অর্থে তারা শুধু স্পিরুলিনা ও তেল দিয়ে তৈরি নরম বাদামি কিমা এডো শিল্প পর্যায়ে উৎপাদন করবে, জানিয়েছেন গ্রিন কুইনের আনায় মৃদুল। তহবিলে নেতৃত্ব দিয়েছে সোয়েন ব্লু ওশান ২, অ্যাস্টেরিয়ন ভেঞ্চারস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সমর্থিত অ্যাক্সিলারেটর ইআইটি ফুড; সঙ্গে আছে ফ্রান্স ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংক বিপিআইফ্রান্সের অনুদান ও ব্যাংকঋণ।
স্পিরুলিনা এক ধরনের সায়ানোব্যাকটেরিয়া, দীর্ঘদিন সম্পূরক হিসেবে বিক্রি হলেও স্বাদ, রং ও গঠনের কারণে খাবারে এর ব্যবহার সীমিত। ২০২৩ সালে হুগো ভ্যালেন্তিন, পিয়ের মিনিয়ঁ ও নিকোলা ইর্লিঞ্জারের প্রতিষ্ঠিত এদোনিয়া পেটেন্ট করা একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তেলে রান্না করে স্পিরুলিনার রং, স্বাদ ও গঠন বদলে দেওয়া হয়, তৈরি হয় উমামি স্বাদের ঝুরঝুরে দানা, শৈবালের চেনা গন্ধ ছাড়াই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে কোনো সংযোজক, গাঁজন, এক্সট্রুশন বা এনজাইম লাগে না; পদ্ধতিটি তৈরি হয়েছে অ্যাগ্রোপ্যারিসটেকের গবেষণাগারের সঙ্গে।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, এডোর প্রতি ১০০ গ্রামে ২৭ গ্রাম প্রোটিন আছে, সব অত্যাবশ্যক অ্যামিনো অ্যাসিডসহ, আর আছে ২০ মিলিগ্রাম আয়রন। একই পরিমাণ প্রোটিনে এর কার্বন পদচিহ্ন ১.৯৫ কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য, যা গরুর মাংসের চেয়ে ২৭ গুণ ও সয়া কিমার চেয়ে আড়াই গুণ কম বলে দাবি করেছে এদোনিয়া। এগুলো প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব হিসাব।
নতুন অর্থে ফ্রান্সের ব্রিটানিতে টিনজাত টুনা উৎপাদক মেজোঁ শঁসরেলের একটি বিদ্যমান স্থাপনায় কারখানা হবে, যা এক বছরের মধ্যে চালুর কথা; ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে খাদ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রিও বাড়ানো হবে। এদোনিয়া জানিয়েছে, ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ৩ কোটি ইউরোর আগাম অর্ডার পেয়েছে তারা। ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান নিউরেস্ট ২০২৫ সাল থেকে ফ্রান্সে প্রতি মাসে হাজার হাজার খাবারে উপাদানটি ব্যবহার করছে।
২০২৪ সালে ২০ লাখ ইউরোর তহবিলে আজঁতে একটি পরীক্ষামূলক কারখানা গড়ে এদোনিয়া শিল্প উৎপাদনের পথে নামে। প্রধান নির্বাহী হুগো ভ্যালেন্তিনের দাবি, প্রাকৃতিক খাদ্যভিত্তিক প্রোটিন বাস্তব পরিমাণে, বাস্তব গ্রাহক নিয়ে পুষ্টিতে প্রাণিজ প্রোটিনকে ছাড়িয়ে যেতে ও দামে প্রতিযোগিতা করতে পারে, আর এই তহবিল সেই প্রতিশ্রুতিকে যাচাই করা প্রমাণে রূপ দেবে।
ছবি: Music4thekids / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)