ভুট্টার ফলনে কৃষকের নিয়ন্ত্রণে থাকা সবচেয়ে বড় উপাদান নাইট্রোজেন, আর কেউই তা ছাড়া চলতে পারেন না—ফার্ম প্রোগ্রেসকে বলেছেন ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের ফসল-শারীরবিদ ফ্রেড বিলো (Fred Below)। যদিও জুলাইয়ের শুরুতে অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়ার গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১,০৫৭ ডলার, এক বছর আগের চেয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।
বিলোর যুক্তি ফসলের গ্রহণ-বক্ররেখায়। ভুট্টা সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেন টানে ভি৮ থেকে আর২ পর্যায়ে; একরে ২৩০ বুশেলের ফসল প্রায় ২১ দিন ধরে দিনে ৫ পাউন্ড নাইট্রোজেন নেয়। এই শীর্ষ-গ্রহণ না বাড়িয়ে ফলন বাড়ানো যায় না, তাই গাছ যখন চায় তখন সার থাকতে হবে। তাঁর প্রথম পরামর্শ: বিকল্প না থাকলে শরতে সার দেবেন না; দিতেই হলে নাইট্রিফিকেশন ইনহিবিটর ব্যবহার করুন, কারণ মাসের পর মাস ফসল সেই নাইট্রোজেন ছোঁবে না।
ভাগ করে প্রয়োগ সম্ভব হলে তাঁর সূত্র: ৬০ শতাংশ বপনের সময় বা আগে, বাকি ৪০ শতাংশ সাইডড্রেস হিসেবে।
কতটা দিতে হবে, তা ঠিক করার হাতিয়ার 'ম্যাক্সিমাম রিটার্ন টু নাইট্রোজেন' (এমআরটিএন) ক্যালকুলেটর, যা ইলিনয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞানী জন জোনস (John Jones) কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীদের সঙ্গে চালান। জোনসের হিসাবে সয়াবিনের পরের ভুট্টা অর্ধেক নাইট্রোজেন পায় মাটি থেকে, বাকিটা সার থেকে; ভুট্টার পরের ভুট্টা ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশই নেয় সার থেকে। এমআরটিএন হার সর্বোচ্চ ফলনের নয়, সবচেয়ে লাভজনক হার—দুটির মধ্যে ফলনের ফারাক মাত্র একরপ্রতি দেড় থেকে দুই বুশেল, যদিও সারের দাম বাড়লে বা ভুট্টার দাম কমলে ফারাক বাড়ে।
মধ্য ইলিনয়ে সয়াবিনের পরের ভুট্টা ও টনপ্রতি ৮৯২.৫০ ডলারের অ্যানহাইড্রাস ধরে একটি উদাহরণে ক্যালকুলেটর বলছে, ভুট্টা ৪ ডলার হলে একরে ১৭২ পাউন্ড আর ৫ ডলার হলে ১৮১ পাউন্ড নাইট্রোজেন; কম হারটির জন্য লাগবে ২১০ পাউন্ড অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়া। এই দৃশ্যপটে নাইট্রোজেন থেকে নিট আয় ভুট্টার দামভেদে একরপ্রতি ৩৪০.৫২ থেকে ৪৪৯.৫০ ডলার।
বিলোর দল বৃষ্টি ও তাপমাত্রা অনুযায়ী ধীরে মুক্ত হওয়া একটি নিয়ন্ত্রিত-নিঃসরণ নাইট্রোজেনও পরীক্ষা করছে; এ বছরের তথ্য এখনো আসেনি, তবে তিনি ফলনে সুবিধা আশা করছেন। দলটি আগেই দেখেছে, যেসব হাইব্রিডের শিকড় বেশি ছড়ানো কোণে বাড়ে, সেগুলো সাইডড্রেসে ভালো সাড়া দেয়; নাইট্রোজেন-সংবন্ধনকারী পণ্যও মূল্যায়নের তালিকায় আছে।
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)