দক্ষিণ আফ্রিকায় গবাদিপশুর ক্ষুরারোগ (ফুট-অ্যান্ড-মাউথ ডিজিজ, এফএমডি) জাতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু কৃষি বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১,৫০১টি প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তিহীন। খবরটি দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি। প্রতিবেদনে মোট ২,৮৭১টি প্রাদুর্ভাবের তথ্য আছে, যার ১,৩৭০টি বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউওএএইচ) জানানো হয়েছে।
রোগের এসএটি১ ও এসএটি২ ধরন এখনও পশুপালনে ক্ষতি করছে, বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে। নয়টি প্রদেশেই নিষ্পত্তিহীন প্রাদুর্ভাব আছে। তবে বিভাগ সতর্ক করেছে, নিষ্পত্তিহীন মানেই ভাইরাস ছড়াচ্ছে এমন নয়। কোনো কোনো খামারে সংক্রমণ না থাকলেও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন চলছে।
সবচেয়ে বেশি ৪২১টি নিষ্পত্তিহীন প্রাদুর্ভাব ইস্টার্ন কেপে, সেখানে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১২টি, আর প্রতিটি জেলায় পাওয়া গেছে এসএটি১। কোয়াজুলু-নাটালে নিষ্পত্তিহীন ৩৪৬টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ৩০টি। দুই প্রদেশ মিলে দেশের মোটের প্রায় ৫১ শতাংশ। কোয়াজুলু-নাটালের অনেক ঘটনা ২০২১ সালের মে মাসে পাশাপাশি পাঁচটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত এলাকায় শুরু হওয়া এসএটি২ প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে যুক্ত। বিভাগ বলছে, সেখানে বুনো মহিষ ভাইরাস বহন করতে পারে বলে পুরো নিষ্পত্তির সম্ভাবনা কম।
ফ্রি স্টেট সবচেয়ে বেশি ৬৩৪টি প্রাদুর্ভাব নিষ্পত্তি করেছে, এখনও বাকি ১৬৩টি। নর্থ ওয়েস্টে নিষ্পত্তি ৩২৯টি, বাকি ১৪৩টি। নিষ্পত্তিহীন প্রাদুর্ভাব গাউতেংয়ে ১৩৬টি, এমপুমালাঙ্গায় ১২৩টি, লিম্পোপোতে ৯৯টি, নর্দান কেপে ৩৯টি ও ওয়েস্টার্ন কেপে ৩১টি। বিভাগের তদন্ত দেখিয়েছে, ২০২১ সালের কোয়াজুলু-নাটালের ভাইরাসই ২০২৪ সালে ইস্ট লন্ডনে এবং ২০২৫ সালে এমপুমালাঙ্গা, গাউতেং, নর্থ ওয়েস্ট ও ফ্রি স্টেটে ছড়িয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন হানলি দু প্লেসিস।
ছবি: dr. D. Denev / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা




মন্তব্য
(০)