নবজাতকের জ্বর এলে চিকিৎসকেরা ঝুঁকি না নিয়ে প্রায়ই কড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করেন, কারণ জ্বরের কারণ জানার প্রচলিত পরীক্ষার ফল আসতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন লাগে। বিজ্ঞানচিন্তায় অনিক রায় নিউ সায়েন্টিস্টের বরাতে লিখেছেন, বিজ্ঞানীরা এমন এক রক্তপরীক্ষা তৈরি করেছেন, যা ১৫ থেকে ২০ মিনিটে বলে দিতে পারে জ্বর ব্যাকটেরিয়ার কারণে নাকি ভাইরাসের।
লেখায় উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুদের মাত্র ১৫ শতাংশের শরীরে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ থাকে; বাকি ৮৫ শতাংশ অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক পায়। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারকে বিশ্বজুড়ে জীবাণুর ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে ওঠার বড় কারণ বলা হয়েছে।
পরীক্ষাটি শ্বেতকণিকার দুটি প্রোটিনের ওপর নির্ভর করে। ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করলে নিউট্রোফিলের গায়ে CD64 প্রোটিন বেড়ে যায়, আর ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় মনোসাইটের আবরণে বাড়ে CD169। ইতালির জিয়ান্নিনা গাসলিনি ইনস্টিটিউটের গবেষক তোমাসো বেলিনির দল ৯০ দিনের কম বয়সী, জ্বর নিয়ে জরুরি বিভাগে আসা ৮৫ নবজাতকের ওপর পরীক্ষাটি চালায়; ১৫ জনের ব্যাকটেরিয়া, ৪৪ জনের ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়, ২৬ জনের কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। ফল প্যারিসে ইউরোপিয়ান ইমার্জেন্সি মেডিসিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হয়।
ফ্রান্সের মার্সেইয়ে বেকম্যান কুলটার লাইফ সায়েন্সেসের গবেষক ফ্যাব্রিস ম্যালেরগু এক দশকের বেশি সময় ধরে এই প্রোটিন পরীক্ষা নিয়ে কাজ করছেন; ২০২১ সালে বয়স্ক রোগীদের ওপর তা সফল হয়েছিল। তাঁর দল একটি ছোট বহনযোগ্য যন্ত্র তৈরি করেছে, যাতে আঙুলের কয়েক ফোঁটা রক্তে ১৫ মিনিটে ফল মেলে; যন্ত্রটি গবেষণায় ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। ক্যারিবীয় দ্বীপ মার্টিনিকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে এক সহযোগী গবেষক পরীক্ষাটি ব্যবহার করে ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে আসা কয়েকজনের শরীরে ব্যাকটেরিয়াজনিত লেপ্টোস্পাইরোসিস শনাক্ত করেছিলেন।
বেলিনি এখন তিন শ থেকে পাঁচ শ শিশুর ওপর আরও বড় পরিসরে পরীক্ষাটি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বড় পরিসরে কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে শিশুদের অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক কমিয়ে ওষুধপ্রতিরোধের ঝুঁকি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।
ছবি: Magnus Manske / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তা





মন্তব্য
(০)