সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও গুজব ছড়িয়ে কিছু এলাকায় কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কুড়িগ্রামের কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন। চলতি আমনে জেলায় সারের পর্যাপ্ত জোগান ও রেকর্ড বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে; ডিলারদের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে বিতরণ চলছে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার না কিনতে কৃষকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, আগস্টে জেলায় ৫,৮৭৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া বরাদ্দ হয়েছে, গত বছরের ৩,২৫৩ টনের প্রায় দ্বিগুণ; সঙ্গে ডিএপি ১,৫৭২, এমওপি ১,৬৪৮ ও টিএসপি ৯২৪ টন। সেপ্টেম্বরেও ইউরিয়া ৪,৬৪৪, ডিএপি ১,৯২১, টিএসপি ৮০২ ও এমওপি ১,৩২৬ টন বরাদ্দ দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
স্বচ্ছ বিতরণে প্রতিটি পয়েন্টে ট্যাগ অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি বহাল আছে; ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী ও রৌমারীসহ জেলাজুড়ে সরকারি দামে বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সোমবার রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারীতে বিতরণের সময় সাময়িক বিলম্বের সুযোগে কিছু উসকানিদাতা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলেও প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি সামলায়; ভুল বুঝতে পেরে কৃষকেরা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংগৃহীত সার ফেরতও দেন।
কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে আমনে সার প্রয়োগ প্রায় শেষ পর্যায়ে; আগামী রবিতে আলু, ভুট্টা ও শীতকালীন সবজির জন্য অক্টোবর-নভেম্বরে বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে, তাই নদীতীর বা চরের কৃষকদের আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুতের দরকার নেই।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাসসকে বলেন, দেশে সারের ঘাটতি নেই, ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা নেই; মাঠপর্যায়ে চাহিদার চেয়ে মজুত বেশি। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজনের বেশি সার না নিতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাসসের কুড়িগ্রাম প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)