সরকারি ও বেসরকারি—দুই পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ সার আমদানির একাধিক প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সভায় এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এই সার কিনতে খরচ হবে ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি), মরক্কো থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি এবং বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও ২ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি।
রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ষষ্ঠ লটে ৩৫ হাজার টন এমওপি আসবে প্রতি টন ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলারে; মোট ব্যয় ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা, যা কৃষি ভর্তুকির বরাদ্দ থেকে পরিশোধ হবে। বিএডিসির এই অর্থবছরে এমওপি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১৬ হাজার টন, এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টন; এ পর্যন্ত সেখান থেকে এসেছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টন। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি গত ২৪ মে নবায়ন করা হয়।
মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ এবং বিএডিসির জিটুজি চুক্তির ঐচ্ছিক তৃতীয় লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি আসবে প্রতি টন ৮৮৫ ডলারে, মোট ক্রয়মূল্য ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। একই দামে ও একই মূল্যে ঐচ্ছিক চতুর্থ লটে আরও ৪০ হাজার টন ডিএপি আমদানির প্রস্তাবও সুপারিশ করা হয়েছে।
বেসরকারি পর্যায়ে ২০টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫ লাখ টন ডিএপি আমদানির প্রস্তাবে প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৯৩৮ ডলার, মোট ৪৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এই সার আসবে মরক্কো, রাশিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, মিশর ও তিউনেশিয়া থেকে; প্রতিষ্ঠানভেদে পরিমাণ ১০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টন। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এনআরকে হোল্ডিং, দেশ ট্রেডিং করপোরেশন, বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মুগ্ধ ট্রেডার্স ও মেসার্স আকন এন্টারপ্রাইজ।
১৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাশিয়া, কানাডা ও বেলারুশ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন এমওপি আসবে প্রতি টন ৩৯৮ দশমিক ৯৭ ডলারে, মোট ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ ডলার; প্রতিষ্ঠানভেদে ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টন। আর ১০টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেবানন, বুলগেরিয়া, মরক্কো, মিশর ও তিউনেশিয়া থেকে ২ লাখ টন টিএসপি আসবে প্রতি টন ৭৫৬ ডলারে, মোট ১৫ কোটি ১২ লাখ ডলার।
আসন্ন রবি মৌসুম ও আলু আবাদের আগে ফসফেট ও পটাশ সারের চাহিদা বাড়ে; প্রায় ১০ লাখ টনের এই আমদানি সেই সময়ের সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)