শুকনো মৌসুমের শান্ত মেঘনা। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে মেঘনার চর-কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চোখে পড়ে শাক-সবজির সবুজ সমারোহ। দূর থেকে শান্ত মনে হলেও এই চরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন মোটেও সহজ নয়।
এই চরে শতাধিক কৃষক নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফসল উৎপাদন করে চলেছেন। তাদের একজন বোরহান উদ্দীন। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ সংকট, মানসম্মত বীজ ও সার প্রাপ্তির জটিলতা, সব মিলিয়ে চরাঞ্চলের কৃষি প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এখানেও বীজ ও চারার মান নিয়ে কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে, তবে চরের বাস্তবতা আরও কঠিন।
তবুও সংকটের ভেতর দিয়েই চরের কৃষকেরা দেশের শস্যভাণ্ডারে নিয়মিত যোগান দিয়ে যাচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানাচ্ছেন কৃষকেরা। ফসল এখান থেকেই পাইকারদের কাছে বিক্রি হলেও বিনিয়োগ ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রশ্নে কৃষকের ঝুঁকিই বেশি।
বাংলাদেশের প্রায় ১০ শতাংশ ভূমি চরাঞ্চল, যেখানে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। নদীভাঙন, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই মানুষগুলোকেই সবচেয়ে আগে আঘাত করে। তবুও কৃষকের হাতেই চর হয়ে উঠছে আশীর্বাদ।
পরিকল্পিত কৃষি, সহজলভ্য কৃষি উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও শক্তিশালী বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের চরাঞ্চল হতে পারে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র। চর কৃষককে মূলস্রোতের উন্নয়নে যুক্ত করাই পারে টেকসই বাংলাদেশের পথে এগিয়ে নিতে দেশকে।





মন্তব্য
(০)