যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য স্কুলের খাবারে স্থানীয় কৃষিপণ্য আনতে যে বিনিয়োগ করেছে, তা কৃষকদের হাত ঘুরে দ্বিগুণ হয়ে ফিরছে। অঙ্গরাজ্যের ফার্ম টু স্কুল ইনকিউবেটর গ্রান্ট প্রোগ্রামের নতুন অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, কৃষকদের দেওয়া প্রতি এক ডলার অনুদানে অঙ্গরাজ্যজুড়ে প্রায় ২.১০ ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে—মূলত কারণ খাবারের টাকার বড় অংশ ক্যালিফোর্নিয়ার ভেতরেই থাকছে।
প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ইউসি বার্কলি, ইউসি এগ্রিকালচার অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস, বার্কলি ফুড ইনস্টিটিউট ও ফুড ইনসাইট গ্রুপের একটি স্বাধীন গবেষক দল, সঙ্গে ছিল কর্নেল ইউনিভার্সিটি। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে ফার্ম টু স্কুল কর্মসূচিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগই সবচেয়ে বড়; ২০২৭ সালের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটি প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ইনকিউবেটর অনুদান দেবে।
স্কুলের বাজার পুরোনো বাজারের জায়গা নেয়নি, বরং তার সঙ্গে যোগ হয়েছে: জরিপে অংশ নেওয়া খামারের ৭৬ শতাংশ স্কুলের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়িয়েছে, বিক্রি ও স্কুলবাজারের সঙ্গে যুক্ত জমির পরিমাণ দুটোই বেড়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৯২টি স্কুল অনুদানগ্রহীতা প্রায় ৬৪ লাখ ডলার অনুদানের অর্থ খরচ করেছে অপ্রক্রিয়াজাত বা স্বল্প-প্রক্রিয়াজাত খাবারে, আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণির অনুদানগ্রহীতাদের কেনাকাটার ৭৪ শতাংশ গেছে ফুড হাব ও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে।
ফলাফলগুলো এসেছে অঙ্গরাজ্যের কৃষকদের কঠিন সময়ে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে খরচ বাড়া ও বাজার হারানোর কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় সাত হাজারের বেশি ক্ষুদ্র খামার বন্ধ হয়ে গেছে; কৃষকেরা টিকে থাকতে স্থিতিশীল ক্রেতা খুঁজছেন।
কর্নেলের ডাইসন স্কুল অব অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিকস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের ভিজিটিং অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর বেকা জাবলনস্কি (Becca Jablonski) বলেন, ফার্ম টু স্কুল বাজার অংশগ্রহণকারী খামারের জন্য প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে হচ্ছে। ফুড ইনসাইট গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান গবেষক বেথ কাটজ (Beth Katz) জানান, কর্মসূচিটি স্কুলকে স্থানীয় কৃষকের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রান্নাঘরের অবকাঠামো, স্কুল-খাদ্য কর্মী ও খাদ্য-বাগান শিক্ষায় বিনিয়োগ করছে।
মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, টেকসই ফার্ম টু স্কুল ব্যবস্থার জন্য শুধু খাবার কেনা যথেষ্ট নয়—জনবল, অবকাঠামো, সম্পর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা লাগে; বহু স্কুলের রান্নাঘরে এখনো তাজা উপকরণে রান্নার সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষিত কর্মী নেই। কর্মসূচির অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাবের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৭ সালের শুরুতে প্রকাশের কথা।
সূত্র: Morning Ag Clips





মন্তব্য
(০)