ঋণ ও সুদ মওকুফসহ নানা সুবিধার পরও কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ কমছে না। বণিক বার্তার প্রতিবেদনের বরাতে এগ্রিকেয়ার২৪ জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে কৃষিতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশ। এর প্রায় ৯০ শতাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে।
কৃষকদের স্বস্তি দিতে সরকার সম্প্রতি প্রায় সাড়ে ৪৫০ কোটি টাকার কৃষিঋণ ও সুদ মওকুফ করেছে, তবু খেলাপির বড় অঙ্ক কমেনি। এতে কৃষিঋণের তদারকি, ঋণের যথাযথ ব্যবহার ও আদায় প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয়েছে, আগের বছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ২৩ শতাংশ বেশি এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, কৃষিঋণের একটি অংশ কৃষির বাইরে খরচ হচ্ছে; বিতরণের পর পর্যাপ্ত তদারকি না থাকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানি ও উৎপাদন ঝুঁকিতে অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ শোধ করতে পারছেন না। বড় একটি অংশ বেসরকারি সংস্থা ও এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ হওয়ায় কৃষকের ওপর বাড়তি সুদের চাপও পড়ছে বলে তাঁরা বলছেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কৃষির মৌসুমি ও প্রাকৃতিক ঝুঁকি বিবেচনায় ঋণ ব্যবস্থাপনায় আলাদা কাঠামো দরকার; নির্দিষ্ট সময় পার হলেই কৃষিঋণকে খেলাপি না ধরে উৎপাদন, ফসলহানি ও দুর্যোগও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, এখন বড় চ্যালেঞ্জ বিতরণ বাড়ানো নয়, ঋণের সঠিক ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি ও সময়মতো আদায় নিশ্চিত করা।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)