যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের থেয়ারের কাছে ভাই জোসেফ ও বাবা রবার্টের সঙ্গে গম, ভুট্টা ও সয়াবিন চাষ করেন জেসি জন (Jesse John)। তিনি বলছেন, তাঁদের শস্যভান্ডারের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ছোট করে—একবারে একটি বিন, মূলত যাতে ট্রাক খেত থেকে সোজা খামারে আসে, এলিভেটরের লাইনে দাঁড়াতে না হয়। আজ পরিবারটির আটটি জিএসআই বিন আছে; গত বছর যোগ হয়েছে ৭৫ হাজার বুশেলের দুটি, এ বছর আসছে আরেকটি। মোট ধারণক্ষমতা প্রায় সাড়ে চার লাখ বুশেল, পরে পুরোনো বিনে রিং যোগ করে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা।
ফার্ম প্রোগ্রেসকে জন বলেন, সবচেয়ে কাজে লাগা সিদ্ধান্ত ছিল বিনগুলো কোথায় বসবে। আগের প্রজন্মের ছোট যন্ত্রের মাপে সাজানো উঠানে আধুনিক যন্ত্র ঘোরানোর বদলে তাঁরা খামারবাড়ি থেকে সিকি মাইলেরও কম দূরে নিজেদের জমিতে, ভালো সড়কের পাশে বিন-সারি বসিয়েছেন, যাতে সামনে জায়গা থাকে। একটি আফসোস: ৩৫ হাজার বুশেলের বিনই বানাবেন ভেবে তাঁরা একক-ফেজ বিদ্যুৎ নিয়েছিলেন; এখন মনে হয় শুরু থেকেই তিন-ফেজ নেওয়া উচিত ছিল।
ফসল কাটার সময় এই ভান্ডারের দাম বোঝা যায়—আবহাওয়া ও যন্ত্র যত দেয়, তত দ্রুত কাটা যায়; পরে ভাড়া না গুনে ভালো দামের খোঁজ করা যায়। তাঁর কথায়, বাজার যেভাবে ওঠানামা করছে, তাতে সংরক্ষণ-ভাড়া না দিয়ে দরকারমতো শস্য সরাতে পারাটাই ভান্ডার বাড়ানোর বড় যুক্তি।
ক্যানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রায় ২০ বছর আগে ইথানল শিল্পের বাজার ধরতে খামারে শস্য রাখার অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করেছিল; নিবন্ধটি বলছে, পশ্চিম ও মধ্য ক্যানসাসের বড় দুগ্ধখামার এবং আলাদা করে রাখতে হয় এমন বিশেষ ফসলের কারণে সেই সুযোগ এখনো আছে।
আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশন বিন বানানোর তিনটি বিকল্প দিয়েছে: বাণিজ্যিক এলিভেটরে 'কনডোমিনিয়াম' ভান্ডার—নির্দিষ্ট আয়তন কিনে বা দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় নিয়ে, যেখানে গুণমান এলিভেটর দেখে কিন্তু বিক্রিও হয়তো সেখানেই করতে হয়; শুধু বেশি ফলনের বছরে বাণিজ্যিক জায়গা ভাড়া নেওয়া; আর ইজারা নেওয়া জমিতে থাকা পুরোনো বিন ভাড়া নেওয়া, যা খেতের কাছে হলেও ইজারা নবায়নের ওপর নির্ভরশীল।
কে-স্টেটের পরামর্শ: নির্মাণ খরচের সঙ্গে অবচয়, সুদ, কর ও বিমা ধরে স্থাপনার আয়ুষ্কাল জুড়ে বুশেলপ্রতি খরচ বের করুন, তারপর বায়ুচলাচল, শুকানো, নজরদারি, কীটনাশক, মেরামত, সংকোচন ও পরিবহনের পরিবর্তনশীল খরচ যোগ করুন। আজকের সুদের হারে ঋণ শোধ না করে শস্য ধরে রাখার খরচটিও অনেক কৃষক ভুলে যান বলে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
সূত্র: Farm Progress





মন্তব্য
(০)