দেশের কৃষি ও পল্লী খাতে অর্থায়নের গতি বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ৪২ হাজার ৮৩৪ দশমিক ১৬ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে—আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি এবং এক বছরে প্রথমবার ৪২ হাজার কোটির ঘর ছাড়ানো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের ‘মান্থলি রিপোর্ট অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ফাইন্যান্স’-এ এ চিত্র উঠে এসেছে।
অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা, আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি; বছর শেষে ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ঋণ দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনেই তফসিলি ব্যাংকগুলো ৪ হাজার ৭৫৭ দশমিক ৫৫ কোটি টাকা বিতরণ করে, যা মে মাসের চেয়ে ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি।
আদায়েও উন্নতি: জুনে আদায় ৬ হাজার ১৪ দশমিক ৩৮ কোটি এবং পুরো অর্থবছরে ৪৫ হাজার ৬২৬ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা, আগের বছরের চেয়ে ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। জুন শেষে কৃষি খাতে বকেয়া স্থিতি ৬৩ হাজার ৫৭৪ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা; মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ১৯ হাজার ৮০৭ দশমিক ৩৩ কোটি টাকায় নেমেছে।
খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঋণ গেছে শস্য উৎপাদনে—মোটের ৪৭ দশমিক ৩২ শতাংশ; এরপর গবাদিপশু ও পোল্ট্রি ২৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং মৎস্য ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও বড়: গ্রামীণ ব্যাংকসহ শীর্ষ ১০ এনজিও জুনে ১৯ হাজার ৮৬৩ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি; ১৪ হাজার ৫৩৯ শাখার মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ সদস্য এ সুবিধা নিয়েছেন, আর জুনে তাদের আদায় ১৯ হাজার ৬১৭ দশমিক ৩৫ কোটি টাকা—২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। বকেয়া কমাতে তদারকি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক দেশকালের অর্থনৈতিক প্রতিবেদকের প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: সাম্প্রতিক দেশকাল





মন্তব্য
(০)