গবাদিপশুর খাদ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে উৎপাদিত তেলবীজ ও আমিষ ফসলের অংশ ২০২৫ সালের ২৫.৮ শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশে নিতে চায় ইউরোপীয় কমিশন। পশুপালনকে আরও টেকসই করার কৌশলের অংশ এই পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাজ্যের কৃষি ও উদ্যানতত্ত্ব উন্নয়ন বোর্ডের (এএইচডিবি) বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন তুলে ধরেছে এগ্রিল্যান্ড।
ইইউর গবাদিপশু বছরে প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ টন আমিষজাতীয় খাদ্য খায়। এর প্রায় ২৬ শতাংশ আমদানি করা, আর উচ্চ আমিষযুক্ত তেলবীজ ও আমিষ ফসলের ৭৪ শতাংশই আসে বাইরে থেকে। সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা সয়াবিনে: সয়া আমিষের ৯৪ শতাংশ আমদানি করা।
কমিশনের নীতির মধ্যে আছে অভিন্ন কৃষিনীতির (সিএপি) আওতায় ডাল ও সয়াবিন চাষে প্রণোদনা, অবকাঠামো তহবিল ও চুক্তির মাধ্যমে আমিষ মূল্যশৃঙ্খল শক্তিশালী করা, চারণভূমি ও পশুপালনের সমন্বয়, উৎস লেবেলিং, প্রচার ও সরকারি ক্রয়ের মতো চাহিদা বাড়ানোর ব্যবস্থা, এবং গবেষণা ও বাজার পর্যবেক্ষণ। তবে পুরোপুরি স্বনির্ভরতা লক্ষ্য নয়: আমদানি চলবে, উৎস বৈচিত্র্যময় হবে; ইউক্রেন ইইউতে যোগ দিলে উদ্ভিজ্জ আমিষে স্বনির্ভরতা ৭৬ থেকে ৮৬ শতাংশে উঠতে পারে।
এএইচডিবির মতে, পরিকল্পনাটি ইউরোপের আবাদি কৃষকদের ডাল ও তেলবীজ চাষের সুযোগ বাড়াতে পারে, যদিও কমিশন স্বীকার করছে যে উচ্চ আমিষের ফসলের ফলন সাধারণত বদলে দেওয়া ফসলের চেয়ে কম। মটর ও শিমজাতীয় ফসল বাতাস থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং সারের প্রয়োজন কমায়।
আয়ারল্যান্ডে প্রোটিন এইড স্কিম চালু আছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাবে দেশটিতে বছরে ফিল্ড বিন ও মটর উৎপাদন ৭৭ হাজার ৬০০ টন; আমদানি করা পশুখাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজার হেক্টরে ১ লাখ ৩০ হাজার টন উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্য রয়েছে।
ছবি: Acabashi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)