বেশি ফলনের সঙ্গে পুষ্টি-দক্ষতা ও চাপ-সহনশীলতা মেলানো ভুট্টার জাত বিশ্বে উৎপাদন ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে এবং সক্রিয় নাইট্রোজেনের অপচয় এক-চতুর্থাংশের বেশি কমাতে পারে, বলছে Science Bulletin (সায়েন্স বুলেটিন)-এ প্রকাশিত এক গবেষণা। নেতৃত্বে ছিলেন বেইজিংয়ের University of Science and Technology (ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি)-র Xiangyuan Wan (শিয়াংইউয়ান ওয়ান) ও Xun Wei (শুন ওয়েই); সঙ্গে চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি, ওয়াগেনিঙেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ এবং আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (সিমিট)।
গবেষক দল ভুট্টার ৪৮টি বৈশিষ্ট্যকে চার ভাগে সাজায় — রোগ ও পোকা প্রতিরোধ; খরা, তাপ, ঠান্ডা ও লবণ সহনশীলতা; ঘন রোপণের উপযোগী গাছের গঠন; আর পুষ্টির দক্ষ ব্যবহার — এবং ২৭,৫১৬টি কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেইট নিউক্লিওটাইড ও ৩,২৭২টি ট্রেইট লোকাসকে জিনগত গুচ্ছে মেলায়। তাতে চার ভাগে সাধারণ ২৯৩টি জিনোম-অঞ্চল মেলে; জানা ৫২৪টি জিনের ২২৭টি পড়ে ৯৮টি সাধারণ গুচ্ছে, যেগুলোকে লেখকেরা সূক্ষ্ম ম্যাপিং, জিন সম্পাদনা ও আণবিক প্রজননের অগ্রাধিকার লক্ষ্য বলছেন।
অন্তত একটি এমন বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিশ্বের ৫৩৯টি জাতের জরিপে দেখা যায়, সহজ বৈশিষ্ট্যগুলোরই আধিক্য — পোকা প্রতিরোধ ও আগাছানাশক সহনশীলতা — আর নাইট্রোজেন-দক্ষতা কিংবা ঠান্ডা বা লবণ সহনশীলতা বিরল; বাণিজ্যিক জাতে তিন বা তার বেশি বৈশিষ্ট্য কমই মেলে। ৯৬টি গবেষণার ১,৭০৯টি মাঠ-পর্যবেক্ষণের মেটা-বিশ্লেষণে এসব জাতের ফলন-বৃদ্ধি ১০.১ শতাংশ, পরিসংখ্যানগত সমন্বয়ের পর ১২.৭ শতাংশ; পোকা প্রতিরোধের সঙ্গে খরা সহনশীলতা মেলানো জাতে ফল সবচেয়ে জোরালো।
এসব জাত শোষিত নাইট্রোজেনকে দানায় রূপান্তরে ১৬.৭ শতাংশ বেশি দক্ষ, কিন্তু নাইট্রোজেন গ্রহণ ১৩ শতাংশ কম — লেখকদের সতর্কবার্তা, মাটি থেকে কম নাইট্রোজেন তোলা শিকড়ের বিনিময়ে ফলন কেনা চলবে না। ৫,৬১,৩৫৯টি মাটি ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণের মডেলে পূর্ণ গ্রহণের ঊর্ধ্বসীমা ১৮.১ শতাংশ বেশি ফলন (বছরে ১৪ কোটি ৫৮ লাখ টন) ও ২৬.৬ শতাংশ কম সক্রিয় নাইট্রোজেন অপচয় (১৪ লাখ ৯০ হাজার টন); কম-দক্ষতার অঞ্চলে আজকের গ্রহণ-মাত্রায় কাছাকাছি সময়ের মানদণ্ড প্রায় ৯ শতাংশ বেশি দানা ও ১৩ শতাংশ কম অপচয়।
এই লাভ নির্ভর করে বীজের সঙ্গে সঠিক সার, রোপণ-ঘনত্ব, পোকা ব্যবস্থাপনা ও বাজার মেলানোর ওপর, আর যেখানে সবচেয়ে কাজে লাগবে সেখানে পরীক্ষামূলক জাতকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে নেওয়ার ওপর। লেখকেরা জিনতত্ত্ব, প্রজনন, নিয়ন্ত্রণ, বীজ-ব্যবস্থা ও খামার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় চেয়েছেন — বৈশিষ্ট্য স্তরে স্তরে জুড়তে জিনোমিক নির্বাচন, জিন সম্পাদনা ও বহু-পরিবেশ মাঠ পরীক্ষা, আর প্রয়োজনের অঞ্চলে কৃষকের হাতে বীজ পৌঁছাতে নীতিগত সমর্থন।
সূত্র: Seed World Europe




মন্তব্য
(০)