বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের মিজোরাম রাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বে ফাংপুই জাতীয় উদ্যান থেকে নতুন এক প্রজাতির কুনোব্যাঙের বর্ণনা দিয়েছেন গবেষকেরা। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত গবেষণায় এর নাম দেওয়া হয়েছে ডাত্তাফ্রাইনাস ফাংপুই (Duttaphrynus phawngpui), জানিয়েছে মঙ্গাবে ইন্ডিয়া। ফাংপুই চূড়ায় ওঠার পথের ধারে ২ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় ঘন ঝোপ ও বাঁশঝাড়ের মাঝে পাতার স্তূপে দুটি নমুনা পাওয়া যায়, এলাকাটিতে মানুষের আনাগোনা কম।
ডাত্তাফ্রাইনাস গণের অনেক ব্যাঙ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নানা পরিবেশে, এমনকি দূষিত এলাকাতেও থাকে। কিন্তু নতুন প্রজাতিটি ও এর নিকটাত্মীয় তিনটি প্রজাতি মূলত পূর্ব হিমালয়ের উঁচু পর্বতশ্রেণিতেই সীমাবদ্ধ। শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও ডিএনএ বিশ্লেষণে পরিচিত প্রজাতিগুলো থেকে একে আলাদা করা হয়েছে।
গবেষণার সহলেখক জয়াদিত্য পুরকায়স্থ বলেন, এরা নির্দিষ্ট আবাসেই টিকে থাকে, সব জায়গায় নয়। মাটিতে থাকা এই ব্যাঙের প্রজননে ঘাসে ঢাকা জায়গা, উচ্চ আর্দ্রতা ও বনের ছড়া লাগে, আর বেশি তাপমাত্রা সইতে পারে না। জলবায়ু পরিবর্তন ও পাহাড়চূড়ায় মানুষের দখলে এসব ‘আকাশদ্বীপ’ ছোট হয়ে আসায় তাঁর সতর্কবার্তা, অনেক প্রজাতি আবিষ্কারের আগেই হারিয়ে যেতে পারে।
জরিপ চালিয়েছে মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়, আসাম ডন বসকো বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুয়াহাটির অলাভজনক সংস্থা হেল্প আর্থ, যারা ২০০৬ সাল থেকে ৩৮টির বেশি উভচর ও সরীসৃপ প্রজাতির বর্ণনায় যুক্ত। এ গণের ব্যাঙ উইপোকা, পঙ্গপাল, ঘাসফড়িংয়ের মতো পোকা খায়, আর এদের কানের পেছনের গ্রন্থি থেকে বিষাক্ত রস বের হয়, যা সাপের মতো শিকারিকে দূরে রাখে।
সূত্র: Mongabay India




মন্তব্য
(০)