আরবি না জানলে আল্লাহর কাছে দোয়া কবুল হবে কি না, এই প্রশ্ন অনেক মুসলিমের মনে আসে। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় প্রকাশিত এক লেখায় এর উত্তর খোঁজা হয়েছে নামাজ ও সাধারণ দোয়ার পার্থক্য ধরে। নামাজের কিরাত, রুকু, সিজদা ও তাশাহুদের শব্দ আরবিতে নির্ধারিত, সেখানে নিজের মতো বদল চলে না।
নামাজের বাইরের দোয়া বা মোনাজাত বান্দার একান্ত প্রার্থনা। লেখায় বলা হয়েছে, বাংলা, ইংরেজি, উর্দু বা যেকোনো মাতৃভাষায় এমন দোয়া করা সর্বসম্মতভাবে জায়েজ। ইবনে তাইমিয়া (রহ.) লিখেছেন, আল্লাহ দোয়াকারীর মনের উদ্দেশ্য জানেন, সে যে ভাষাতেই প্রার্থনা করুক। ইমাম নববি (রহ.) বলেছেন, নামাজের বাইরে যেকোনো ভাষায় দোয়ায় সওয়াবের ঘাটতি হয় না।
নামাজের ভেতরে, যেমন নফল নামাজের সিজদায় বা শেষ বৈঠকে মাতৃভাষায় দোয়া নিয়ে চার মাজহাবের মত আলাদা। হানাফি মাজহাবে নামাজে আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় দোয়া মাকরুহে তাহরিমি; ইবনে আবিদিন শামি (রহ.) আরবিতেও কেবল কোরআন-হাদিসে আসা বা সাধারণ কথাবার্তার মতো নয় এমন দোয়ার কথা বলেছেন।
শাফেয়ি মাজহাবের মত তুলে ধরে ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, আরবি পড়তে সক্ষম কেউ নামাজে নিজে বানিয়ে অনারবি দোয়া করলে নামাজ বাতিল হবে; একেবারে অপারগ হলে কেবল মাসনুন দোয়ার অনুবাদ পড়া যাবে। মালেকি ও হাম্বলি মাজহাবের মতও কাছাকাছি: ইবনে কুদামাহ (রহ.) লিখেছেন, আরবিতে পারদর্শীর জন্য নামাজে অনারবি দোয়া নাজায়েজ, তবে অপারগ নওমুসলিম নিজের ভাষায় সিজদায় দোয়া করতে পারবেন।
লেখায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, দোয়ার মূল হলো অন্তরের আকুতি। সুনানে তিরমিজির হাদিস উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কবুলের পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করতে হবে, কারণ উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল হয় না।
লেখাটি প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের।
ছবি: Ashikul Islam Anik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)