জীবনের কিছু মুহূর্তে মনের কষ্ট কাছের মানুষকেও বোঝানো কঠিন হয়। চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত এক লেখায় ফারজিয়া হোসেন মনে করিয়ে দিয়েছেন ইসলামের একটি বড় আশ্বাস: আল্লাহ বান্দার ডাক শোনেন। সুরা বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তিনি নিকটেই, আহ্বানকারী ডাকলে সাড়া দেন; সুরা গাফিরের ৬০ নম্বর আয়াতে আছে, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব।’
প্রথম শিক্ষা দৃঢ়ভাবে চাওয়া। সহিহ মুসলিমের (২৬৭৮) হাদিসে নবীজি (সা.) ‘আপনি চাইলে দিন’ এমন অনিশ্চয়তা নিয়ে দোয়া না করে দৃঢ়ভাবে চাইতে বলেছেন। নিজের প্রয়োজন স্পষ্ট করে, নিজের ভাষাতেই বলা যায়; কষ্ট, ভয়, আশা সবই আল্লাহর কাছে খুলে বলা যায়।
দ্বিতীয় শিক্ষা ধৈর্য। সহিহ মুসলিমের (২৭৩৫) হাদিসে এসেছে, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে যতক্ষণ না সে অধৈর্য হয়ে বলে, ‘দোয়া করেছি, কবুল হয়নি।’ কখন ও কীভাবে সাড়া আসবে, তা আল্লাহর হিকমতের বিষয়।
তৃতীয়ত, দোয়া শুধু বিপদের জন্য নয়; সুখের সময়ও আল্লাহকে স্মরণ ও কৃতজ্ঞতা মুমিনের জীবনের অংশ। চতুর্থত, রাতের শেষ তৃতীয়াংশের বিশেষ মর্যাদা: সহিহ মুসলিমের (৭৫৮) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ সময় আহ্বান আসে কে ডাকবে যাতে সাড়া দেওয়া হয়, কে চাইবে যাতে দেওয়া হয়, কে ক্ষমা চাইবে যাতে ক্ষমা করা হয়।
পঞ্চম শিক্ষা, দোয়ার সঙ্গে আমল। সুরা বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতেই আল্লাহর নির্দেশ মানা ও ঈমানের কথা আছে। তাই হারাম থেকে বেঁচে থাকা, ফরজ ইবাদত আদায়, মানুষের হক নষ্ট না করা এবং গুনাহ হলে তওবা করাও জরুরি বলে লেখায় বলা হয়েছে। লেখকের মতে, কখনো উত্তর আসে প্রত্যাশামতো, কখনো সময় লাগে, কখনো ভিন্নভাবে; মুমিনের কাজ দোয়া, চেষ্টা আর আল্লাহর ওপর ভরসা।
লেখাটি চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত; লেখক ফারজিয়া হোসেন।
ছবি: Omar Chatriwala / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন





মন্তব্য
(০)