আজ ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক আসক্তি পুনরুদ্ধার (রিকভারি) দিবস। এ উপলক্ষে দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদক ফজলুর রহমান কথা বলেছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে, যাঁরা নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পরিবারের সহায়তায় মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। ধানমন্ডির এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী (ছদ্মনাম সাথী) সহকর্মীদের প্ররোচনায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন; মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শে মাদকসেবী সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে, ওষুধ ও নিয়মিত ফলোআপে দেড় বছরে তিনি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহিত কামাল বলেন, মাদকাসক্তি নিরাময়যোগ্য, তবে রোগীকে বাড়িতে রেখে নয়, নিরাময় কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দরকার এবং রোগীর নিজের মাদক ছাড়ার ইচ্ছা থাকতে হয়। চিকিৎসার পর অন্তত দুই বছর মাদক না নিলে তাকে মাদকমুক্ত ধরা যায়। মাদকাসক্তির সঙ্গে মানসিক রোগের সম্পর্ক আছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা এখন প্রায় ৮২ লাখ; ২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণায় তা ছিল প্রায় ৩৬ লাখ। প্রায় ৬১ লাখ মানুষ গাঁজা ব্যবহার করেন। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে নিরাময় কেন্দ্র মাত্র ৩৯০টি, শয্যা ৬ হাজার ৩২৯টি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে করা গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী ১৮ বছরের আগেই প্রথম মাদক নেন, আর গ্রামে এর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মাদক অধিশাখা) এ এফ এম এহতেশামূল হক জানান, সাত বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার সাতটি এবং ঢাকায় ২৫০ শয্যার একটি সরকারি নিরাময় কেন্দ্র করার পরিকল্পনা আছে, ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা; তবে এটি এখনও পরিকল্পনা পর্যায়ে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের পাঁচটি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে গত ২০ বছরে ২ হাজার ৭৮৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন: মাদকাসক্ত ২ হাজার ১৪২ জন, মানসিক সমস্যায় ৬৪৭ জন; সুস্থতার হার ৭৫ শতাংশ। রোগীদের ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ ইয়াবা ও ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ গাঁজা সেবনকারী। মিশনের জ্যেষ্ঠ মনোবিজ্ঞানী রাখী গাঙ্গুলী বলেন, মাদকাসক্তি নৈতিক ব্যর্থতা নয়, একটি জটিল মানসিক ও আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, বেসরকারি ৩৮৬টি ও সরকারি চারটি নিরাময় কেন্দ্র আছে এবং সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর মতে, পরিবারই সবচেয়ে বড় শিক্ষালয়; কেউ যেন মাদক না নেয়, সেদিকে পরিবারকেই নজর রাখতে হবে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর



মন্তব্য
(০)