কুকুরের কামড় তো বটেই, ছোট একটি আঁচড়কেও হালকাভাবে নেওয়া বিপজ্জনক, কারণ জলাতঙ্কের উপসর্গ একবার শুরু হলে বাঁচার সুযোগ প্রায় থাকে না। জাগো নিউজে প্রকাশিত এক কলামে চিকিৎসক ডা. বিএম আতিকুজ্জামান লিখেছেন, সময়মতো ঠিক পদক্ষেপ নিলে রোগটি পুরোপুরি ঠেকানো যায়, আর সেই পদক্ষেপের শুরু ক্ষত ধোয়া দিয়ে। ২৮ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস।
লেখকের ব্যাখ্যায়, জলাতঙ্কের ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে ছড়ায়। তাই কামড় ছাড়াও নখের আঁচড়, আগের কোনো ক্ষতে লালা লাগা, এমনকি চোখ, নাক বা মুখের ভেতরে লালা লাগলেও ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশে মানুষের জলাতঙ্কের প্রধান উৎস কুকুর, আর শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে, কারণ তারা কুকুরের কাছে সহজে যায় এবং ছোট আঁচড়ের কথা বড়দের প্রায়ই জানায় না।
প্রথম কাজ হিসেবে তিনি বলছেন, ক্ষতস্থান সাবান ও প্রচুর প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুতে হবে; এতে ক্ষতে থাকা ভাইরাসের পরিমাণ কমে। এরপর সম্ভব হলে পোভিডন-আয়োডিনের মতো অ্যান্টিসেপটিক দেওয়া যায়। ক্ষতে মরিচ, চুন, তেল, মাটি, ছাই, হলুদ বা কোনো ভেষজ লাগানো যাবে না, আর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তাড়াহুড়ো করে সেলাই বা ব্যান্ডেজও নয়।
ধোয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল, রেবিস প্রতিরোধ কেন্দ্র বা প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলেছেন লেখক। ক্ষতের ধরন ও গভীরতা, শরীরের কোথায় লেগেছে, প্রাণীটির তথ্য এবং আগে টিকা নেওয়া ছিল কি না, এসব দেখে চিকিৎসক রেবিস টিকা দেবেন; গভীর কামড়, রক্তপাত বা মুখ ও হাতের মতো জায়গায় কামড়ে রেবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিনও লাগতে পারে। কামড়ের পর কয়েক দিন অপেক্ষা করে দেখা বিপজ্জনক।
পরিচিত, শান্ত বা সুস্থ দেখতে কুকুর মানেই ঝুঁকি নেই, এমন ভাবাও ভুল বলে সতর্ক করেছেন তিনি। পোষা কুকুরকে নিয়মিত রেবিস টিকা দেওয়া এবং শিশুদের শেখানো জরুরি: অচেনা কুকুরের কাছে না যাওয়া, খাওয়ার সময় বা ঘুমন্ত কুকুরকে বিরক্ত না করা, আর কামড় বা আঁচড় লাগলে সঙ্গে সঙ্গে বড়দের জানানো।
লেখকের মতে, মানুষের সময়মতো চিকিৎসা, পোষা প্রাণী ও পথকুকুরের টিকাদান এবং জনসচেতনতা একসঙ্গে এগোলে এই প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যু বন্ধ করা সম্ভব। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Riaz Uddin Fahim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)