বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি খাওয়া খাবারগুলোর একটি আলু। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, আলুর দম কিংবা পুর দেওয়া পরোটা — যেভাবেই খাওয়া হোক, আলু খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা বা গ্যাসের কথা বলেন অনেকেই। প্রশ্ন হলো, অতিরিক্ত আলু খেলে কি সত্যিই গ্যাসের সমস্যা হয়?
প্রবীণ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট অরুল প্রকাশ বলছেন, এর কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই — শুধু হ্যাঁ বা না বলা সম্ভব নয়।
"বেশিরভাগ মানুষের যে সমস্ত খাবার খেলে সবচেয়ে বেশি গ্যাসের সমস্যা হয় বলে লক্ষ্য করা গিয়েছে, আলু তার মধ্যে নেই। তবে অতিরিক্ত আলু খেলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, কারো কারো পেটে ফাঁপা ভাব অনুভূত হতে পারে," ব্যাখ্যা করেন ডা. প্রকাশ। ভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর প্রভাব আলাদা হতে পারে বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পেটের সমস্যার একমাত্র কারণ আলু নয়। কীভাবে আলু দিয়ে পদটি রান্না করা হয়েছে, খাবারের পরিমাণ কত এবং ওই ব্যক্তির সার্বিক স্বাস্থ্য কেমন — এসবও ভূমিকা রাখে।
স্টার্চ বা শ্বেতসারের ভূমিকাও আলোচনায় আসে। ভাত ও আলুর মতো খাবারে স্টার্চ থাকে এবং কিছু স্টার্চযুক্ত খাবারের প্রতি কেউ কেউ সংবেদনশীল হন।
প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস (এনআইডিডিকে)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম না হওয়া কার্বোহাইড্রেট যখন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গাঁজন প্রক্রিয়ায় ভেঙে যায়, তখন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
"গাঁজনের এই প্রক্রিয়া প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রোজেন, মিথেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্যাস তৈরি করে। অত্যধিক গাঁজন প্রক্রিয়া ঘটলে সেটা পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি এবং গ্যাসের কারণ হতে পারে," বলা হয়েছে এনআইডিডিকের তথ্যে। বাংলাদেশে আলু বছরের অন্যতম বড় ফসল, আর ভোক্তার এমন ধারণা সরাসরি চাহিদাতেই প্রভাব ফেলে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)