দিনাজপুরের বাজারে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের সব ধরনের ফিডের দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা, ৫০ কেজির বস্তায় সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা বেড়েছে; ৫০ কেজির এক বস্তা ব্রান ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ভুট্টা কেজি ২৫ থেকে বেড়ে ৩৭ টাকা হয়েছে, আর পোলট্রি ফিডের বস্তা উঠেছে ৩ হাজার ৬৭৫ টাকা পর্যন্ত; ব্রয়লার ও সোনালির খাবারে বস্তাপ্রতি ১০০–১৫০ টাকা হেরফের।
দেশে অনুমোদিত ফিড উৎপাদক ২৯৪টি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মীদের হিসাবে গরুর ফিড প্রকারভেদে কেজিতে দেড় থেকে দুই টাকা, পোলট্রি ফিড দুই থেকে তিন টাকা, ব্রান কেজিতে ২৬ থেকে ৩৬ টাকায় উঠেছে; সব ফিডে ভুট্টা লাগে বলে এক মাসে ভুট্টার দামই বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। গো-খাদ্যে খড়ের ২০টির বান্ডিল ১৪০ থেকে ১৬৫ টাকা, গমের ভুসি ৫০–৫৫, মটর ডালের ভুসি ৬০–৬৫, মসুর ডালের ভুসি কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৪০, সয়াবিনের খৈল ৬০, ভুট্টার গুঁড়া ৩৪, ভুট্টার ভুসি ৪০, বুটের ভুসি ৬৫, চালের খুদ ৩৫, ধানের কুঁড়া ১৮ ও সরিষার খৈল ৫২ টাকা কেজি।
খামারিদের সবচেয়ে বড় ব্যয় মুরগির খাবার—কারও হিসাবে উৎপাদন খরচের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। দিনাজপুরে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের খামার ৩৪ হাজার ৫৪০টি, লেয়ার, ব্রয়লার, হাঁস, কবুতর ও কোয়েলের খামার ৩ হাজার ৭২টি, বেসরকারি মাছের খামার ৪ হাজার ২২৫টি, সরকারি হ্যাচারি দুটি এবং মাছচাষি ৪২ হাজার ১২৪ জন। ব্রয়লার ও ডিমের দর কিছুটা সহনীয় হওয়ার পর এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে; স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ডিমের দাম এরই মধ্যে বেড়েছে।
সদর উপজেলার পাঁচবাড়ির পোলট্রি খামারি মোমিনুল ইসলাম বলেন, মাসে ব্রয়লারের জন্য ৭০ বস্তা খাবার লাগত, দুই ধাপে দাম বাড়ায় এখন ৬০ বস্তা দিতে হচ্ছে, ফলে কাঙ্ক্ষিত ওজন ও দাম আসছে না—এভাবে চললে খামার বন্ধ করতে হবে। বাসুদেব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী অর্জুন প্রসাদের ভাষ্য, ভুট্টার দাম বাড়ায় সব ফিডের দাম বেড়েছে, আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রান্তিক ও ছোট খামারিদের আশঙ্কা, উৎপাদন ব্যয় এভাবে বাড়লে অনেকে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হবেন।
কৃষি সময়ের দিনাজপুর সংবাদদাতার প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)