দেশি ও উন্নত জাতের মহিষের উৎপাদন ও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামার—দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন খামার। ৯৫ একরের এই খামারে এখন ছোট-বড় প্রায় ২৮০টি মহিষ; ৪৪টি মহিষ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০ লিটার দুধ হয়, যা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খামার থেকেই কেজি ৭০ টাকায় সরাসরি ৫০–৬০ জন ভোক্তার কাছে বিক্রি হয়।
তবে অনুমোদিত ৫২টি রাজস্ব পদের ৪২টিই বদলি ও অবসরসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন শূন্য; কর্মরত মাত্র ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সম্প্রতি আউটসোর্সিংয়ে ২২ জন নিয়োগ দিয়ে কোনোমতে দৈনন্দিন কাজ চলছে। সবচেয়ে বড় সংকট ভেটেরিনারি সেবা—প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪২ বছর পরও খামারে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি হয়নি, জরুরি প্রয়োজনে বাইরের চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে হয়।
খামার সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪-৮৫ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ফকিরহাটের পিলজংগে খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়; শুরুতে ২ কর্মকর্তা ও ৪৮ কর্মচারী মিলিয়ে ৫০ জন জনবল এবং ১১১টি মহিষ ছিল। মহিষ বেড়ে ২৮০টিতে দাঁড়ালেও জনবল সে অনুপাতে বাড়েনি। ২৮০ মহিষের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭০০ কেজি দানাদার খাবারের মিশ্রণ তৈরি করতে হয়।
খামার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী ভেটেরিনারি চিকিৎসক থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়, প্রজনন ব্যবস্থাপনা ও জরুরি চিকিৎসা দ্রুত নিশ্চিত করা যেত এবং উৎপাদনশীলতা ও প্রজনন কার্যক্রম আরও গতিশীল হতো। খামারের মূল লক্ষ্য শুধু দুধ নয়—উন্নত জাতের মহিষের প্রজনন, বংশবিস্তার ও সারা দেশে সম্প্রসারণ; সে লক্ষ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০১ জন খামারির মধ্যে ১৪১টি বাছুর বিতরণ করা হয়েছে।
বাসসের বাগেরহাট বিশেষ প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)