লিঙ্গ, বয়স, অক্ষরজ্ঞান, আর্থিক সামর্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক রীতি কীভাবে কৃষকের ডিজিটাল পরামর্শসেবা পাওয়াকে প্রভাবিত করে, ঘানায় তা নিয়ে একটি নতুন গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাসটেইনেবল ফুড সিস্টেমস সাময়িকীতে। ১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ও ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস সামনে রেখে গবেষণাটি তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ক্যাবি (CABI)। কাজটি হয়েছে আশান্তি ও বোনো অঞ্চলে, যেখানে ক্যাবিসহ বিভিন্ন সংস্থা কৃষকদের ডিজিটাল সেবা দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সব কৃষকই প্রচলিত ও ডিজিটাল দুই ধরনের মাধ্যম মিলিয়ে ব্যবহার করেন: ফার্মারলাইন ৩৯৯-এর মতো স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠসেবা, সাধারণ ও স্মার্ট মোবাইল ফোন, মাঝে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। নারী-পুরুষ সবার কাছে কৃষি তথ্যের প্রধান মাধ্যম মোবাইল ফোন; এ দিয়েই তাঁরা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ক্রেতা ও অন্য কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, মোবাইলে টাকা লেনদেনও করেন।
তবে লিঙ্গ ও বয়সভেদে পার্থক্য বড়। তরুণ পুরুষেরা স্মার্টফোন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বেশি ব্যবহার করেন, আর প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা বেশি নির্ভর করেন সাধারণ ফোন, রেডিও ও কণ্ঠভিত্তিক সেবায়। অনেক নারী পড়তে-লিখতে পারেন না, কৃষি অ্যাপের প্রধান ভাষা ইংরেজিও বোঝেন না, তাই ফোন করা বা বার্তা পড়ার জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। এক নারী কৃষক গবেষকদের বলেন, পড়তে-লিখতে কষ্ট হয় বলেই তিনি স্মার্টফোন এড়িয়ে চলেন।
সামাজিক রীতিও ব্যবধান বাড়িয়েছে: অন্যের বাড়িতে বা প্রকাশ্য জায়গায় গিয়ে রেডিও শোনা বা টেলিভিশন দেখা নারীর জন্য অশোভন বলে ধরা হয়, ফলে ঘরে যন্ত্র থাকলেই কেবল তাঁরা সুযোগ পান। দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক আর অনিয়মিত বিদ্যুৎ সবার জন্যই সমস্যা, কিন্তু স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ডেটার খরচ নারীদের ওপর বেশি ভারী। গবেষণায় জীবিকানির্ভর ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের কৃষকই ছিলেন, কারণ নারীদের প্রায়ই ভুলভাবে শুধু জীবিকানির্ভর কৃষক ধরে নেওয়া হয়।
ক্যাবি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব উদ্ধৃত করেছে: পুরুষের সমান সম্পদ পেলে নারীরা আরও ১০ থেকে ১৫ কোটি মানুষকে ক্ষুধামুক্ত করার মতো খাদ্য ফলাতে পারতেন। সংস্থাটির মতে, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি মানে শুধু তথ্য অনলাইনে তোলা নয়, প্রতিটি কৃষক যেন তা পেতে, বুঝতে ও কাজে লাগাতে পারেন তা নিশ্চিত করা।
ছবি: IanCamp / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)