হতদরিদ্র কৃষকের ধান কেটে মাথায় করে বাড়ি পৌঁছে দিলেন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আল আমিনসহ তার অনুসারীরা। এসময় এক ছাত্রলীগ নেত্রীও ধান কাটায় অংশ নেন।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের বরবিলা গ্রামের কৃষক মো. ইউনুস আলীর ৪০ শতাংশ জমির ধান কাটেন তারা।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আল আমিনের নেতৃত্বে ধান কাটায় অংশ নেন আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শেখ সজল, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পারভেজ হোসেন পাভেল, সানীসহ অন্তত ২০ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে ইউনুস আলী বলেন, আমি হতদরিদ্র কৃষক। আমার পাকা ধান ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু শ্রমিক ও আর্থিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছিলাম না। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমাদের এলাকার সন্তান। তিনি আমার বিষয়টি জানতে পেরে আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। আমি দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে আরও অনেক বড় মনের মানুষ তৈরি করেন।
আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শেখ সজল বলেন, দেশবাসীর দুঃখ-কষ্টে, বিভিন্ন দুর্যোগে সব সময় ছাত্রলীগ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে আমরা কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের এই কাজ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, এই ধান কাটায় এক ছাত্রলীগ নেত্রীকেও অংশ নিতে দেখা গেছে। তিনি রাজধানীর বদরুন্নেছা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সেলিনা আক্তার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিনা বলেন, অনুভূতি বেশ ভালো। কৃষি কাজ করতে কৃষকের যে কষ্ট সেটা অনুভব করেছি। তারা কত কষ্ট করেন আমাদের দেশের মানুষের জন্য। একটি কথা বলতে চাই, কৃষি ও খাদ্যশস্যে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলার কারিগর বাংলাদেশের মানুষের আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার উন্নয়ন দর্শনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কৃষি ও কৃষক। দেশরত্নের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কৃষকের ধান কেটে ঘড়ে তুলে দিচ্ছে। আমরা জানি কৃষক আমাদের দেশের হিরো, তারা ফসল না ফলালে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। তাই সবাই সবার জায়গা থেকে এগিয়ে আসুন।
ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আল আমিন বলেন, 'কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ' এই স্লোগানকে মনে-প্রাণে ধারণ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া শুরু করেছি। আমি খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারি যে, চর বরবিলা গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক মো. ইউনুস আলী তার ৪০ শতাংশ জমির ধান শ্রমিক ও আর্থিক সংকটের জন্য কাটতে পারছিলেন না। বিষয়টি জানার পর ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।
মঞ্জুরুল ইসলাম/এমআরআর/জিকেএস





মন্তব্য
(০)