যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন চাষিদের বছরে ১ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার ক্ষতি করে রোগজীবাণু—চাষ করা প্রতি একরে প্রায় ৩৩ ডলার, তার ওপর রোগ দমনে রাসায়নিকের খরচ আলাদা। AgFunderNews-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি InnerPlant-এর প্রধান কৃষিতাত্ত্বিক মডেলার Kevin Fries ও সফটওয়্যার পণ্য প্রধান ড. Christopher Seifert যুক্তি দিয়েছেন, রোগ শনাক্তের নতুন প্রযুক্তিগুলোর বেশির ভাগ একই কারণে ব্যর্থ: এগুলো লক্ষণ খোঁজে, আর লক্ষণ আসে দেরিতে।
মূল দুশ্চিন্তা সাদা ছাতা (হোয়াইট মোল্ড) ও ফ্রগআই লিফ স্পট (FLS)-এর মতো ছত্রাক রোগ। লেখকদের হিসাবে FLS-এ এখন সাধারণত ৩৫ শতাংশ ফলন কমে, যা ৬০ শতাংশেও পৌঁছাতে পারে। সময়মতো ছত্রাকনাশক দিলে FLS-এর প্রকোপ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যায়, তবে ঠিক সময়ে দিতে হবে—রোগ আসার আগে স্প্রে করলে কোনো লাভ নেই, আর দেরিতে দিলে প্রকোপ ঠেকানো যায় না।
হিসাবটা টানাটানির। এক দফা ছত্রাকনাশকের খরচ তুলতে প্রতি একরে ৭.৫ বুশেল পর্যন্ত বাড়তি ফলন লাগে, কিন্তু Iowa Soybean Association-এর হিসাবে ঢালাও স্প্রেতে ফলন বাড়ে একরে প্রায় ১ বুশেল। লেখকদের ভাষায় অধিকাংশ চাষি এখনো বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে "স্প্রে করে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেন": এক জরিপে দেখা গেছে, মিসৌরির ৬৫ শতাংশ সয়াবিন জমিতে ছত্রাকনাশক দেওয়া হয়েছে—মূলত FLS-এর জন্য—কিন্তু আগে মাঠ পরিদর্শন হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশে।
হেঁটে মাঠ দেখাও বিশেষ কাজে লাগে না, তাঁদের যুক্তি, কারণ FLS-এর কালো দাগ দেখা মানেই স্প্রের সময় শেষ; লক্ষণ দেখা দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জীবাণু ছড়াতে শুরু করে। ক্যামেরা লাগানো ড্রোন বেশি খরচে একই উত্তর দেয়, আর ছত্রাকনাশক কার্যকর থাকার প্রায় ৪৫ দিনের সময়টায় অধিকাংশ ড্রোন সেবা মাত্র দুই-তিনবার উড়ে। সুস্থ ও রোগাক্রান্ত পাতার ছবিতে প্রশিক্ষিত এআই মডেল মানুষের চেয়ে দ্রুত ও নির্ভুল হলেও তা দেখে কেবল দৃশ্যমান সংকেত, যা সংক্রমণ শুরুর সপ্তাহ পরে আসে।
InnerPlant-এর সমাধান—লেখকেরা স্বীকার করেছেন, এটি তাঁদের নিজেদের কোম্পানির—সয়াবিন গাছকেই সেন্সরে পরিণত করা। গাছের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জীবাণুর জবাব দিতে শুরু করলে একটি প্রকৌশলকৃত জিন গাছকে প্রতিপ্রভ (ফ্লুরোসেন্ট) করে তোলে; বিশেষ ক্যামেরায় দেখলে সংক্রমণ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে গাছ "জ্বলে ওঠে"—দৃশ্যমান লক্ষণের প্রায় ১০ দিন আগে। এমন গাছের প্রহরী প্লট (সেন্টিনেল প্লট) নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে কোন জমিতে, বা জমির কোন অংশে, সত্যিই স্প্রে দরকার তা চাষি জানতে পারবেন।
তাঁরা USDA-র একটি সয়াবিন রাস্ট নজরদারি পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে কেবল চোখে দেখে প্রহরী প্লট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেই চাষিদের বছরে ২৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হয়েছিল। তাঁদের নিজেদের হিসাব, লক্ষণের আগে সতর্কবার্তা পেলে বিরতি দিয়ে চোখে দেখার তুলনায় মোট ফলন অন্তত ৬ শতাংশ-পয়েন্ট বাড়তে পারে—গড় ফলনে একরে প্রায় ৪০ ডলার নিট লাভ; কিছু চাষি পর্যবেক্ষণহীন জমির তুলনায় একরে ২৫ বুশেল পর্যন্ত বেশি পাচ্ছেন।
তাঁদের উপসংহার: খুব আগে বা খুব দেরিতে স্প্রে করলে আবার স্প্রের সম্ভাবনা বাড়ে, উপকরণ খরচ বাড়ে, মাটিতে রাসায়নিক জমে আর ছত্রাকনাশক-প্রতিরোধ দ্রুত আসে। বুদ্ধিদীপ্ত মাঠ পরিদর্শন সমাধানের অংশ হবে, তবে তা কাজ করবে শুধু তখনই, যখন চোখ বা ক্যামেরা যা দেখে তার বাইরের সেন্সিং প্রযুক্তি এর সঙ্গে যুক্ত হবে। মতামত লেখকদের নিজস্ব।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)