রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের অপরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস, বেহাল ড্রেন আর জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ছাদ, মাঠ, ড্রেন, পরিত্যক্ত জায়গা, ফুলের টব, প্লাস্টিকের বোতল বা নির্মাণসামগ্রীর ফাঁকে জমে থাকা অল্প পানিই এই ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সরেজমিনে দেখেছে ঢাকা পোস্ট।
ঢাকা কলেজের পেছনের আবাসিক এলাকা ও কম ব্যবহৃত জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ও জমা পানি দেখা গেছে। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী নাবিল আহমেদ বলেন, সকালে ক্লাসে বসে অনেক সময় মশার কামড় খেতে হয়। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের আশপাশেও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে; অভিভাবকেরা ক্লাস শুরুর আগে শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশ পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে সভাপতি করে 'ক্লিন স্কুল টিম' গঠন করা হবে। এতে থাকবেন একজন অভিভাবক প্রতিনিধি, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউএনও মনোনীত একজন প্রতিনিধি, দুজন শিক্ষার্থী এবং সদস্যসচিব হিসেবে একজন শিক্ষক। তবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা বিষাক্ত বর্জ্য পরিষ্কার করানো যাবে না। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতি শনিবার মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন পাঠাতে বলেছে।
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, শুধু প্রশাসনের অভিযানে হবে না, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকেও যুক্ত করতে হবে; ফুলের টব, ডাবের খোসা বা পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমছে কি না, তা খুঁজে বের করাই দলের কাজ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচ্ছন্নতা জোরদার ও নিয়মিত নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক জরিপে সবচেয়ে বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে বহুতল ভবনে, ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ; এরপর একক বাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে। প্রজননস্থলের ধরনে মেঝেতে জমা পানিতে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ, বালতিতে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ লার্ভা মিলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩০ জন, মারা গেছেন ২৩৩ জন; এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই এখন পর্যন্ত ১৩৬ জনের মৃত্যু। ঘরে-বাইরে জমা পানি সরিয়ে ফেলাই এডিস ঠেকানোর সহজ উপায়।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট





মন্তব্য
(০)