একসময় খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় আর ধানখেতে প্রচুর দেশি পুঁটি পাওয়া যেত। জলাশয় কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পুঁটি কমলেও বাড়ির পুকুর বা ছোট জলাশয়ে পরিকল্পিত চাষে পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় সম্ভব। স্বাদের কারণে বাজারে সারা বছর এ মাছের চাহিদা থাকে।
পুকুর বাছতে হবে এমন, যেখানে পর্যাপ্ত রোদ পড়ে, পানি দীর্ঘ সময় থাকে, পাড় মজবুত ও বন্যামুক্ত, আর জলজ আগাছা বেশি নেই। পোনা ছাড়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে পুকুরে শোল, টাকি, গজার, বোয়াল বা মাগুরের মতো রাক্ষুসে মাছ নেই, কারণ এরা পুঁটির পোনা খেয়ে ফেলে।
পোনা ছাড়তে হবে সকাল বা বিকেলের ঠান্ডা সময়ে। নার্সারি থেকে আনা পোনার ব্যাগ কিছুক্ষণ পুকুরের পানিতে ভাসিয়ে রাখুন, তারপর অল্প অল্প করে পুকুরের পানি ব্যাগে দিন আর ব্যাগের কিছু পানি ফেলুন। ৪০ থেকে ৫০ মিনিট এভাবে খাপ খাওয়ানোর পর ছাড়লে তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনে পোনা মরার ঝুঁকি কমে।
পুঁটি পুকুরের শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ খাবার খেতে পারে, তাই ঠিকমতো পুকুর ব্যবস্থাপনায় বাড়তি খাবারের খরচ কম লাগে; মাছের ঘনত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনে সম্পূরক খাবার দেওয়া যায়। পানি পরিষ্কার রাখতে হবে, আর সার বা অন্য উপকরণ দিতে হলে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে। বৃষ্টি বা মেঘলা দিনে খাবার দিতে সতর্ক থাকতে হবে।
পুঁটি কার্পজাতীয় বা অন্য ছোট মাছের সঙ্গে মিশ্রচাষেও মানিয়ে নেয়, ফলে একই পুকুর থেকে একাধিক প্রজাতির মাছে আয় বাড়ে। আমিষের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ভিটামিনের উৎস এই দেশি ছোট মাছের চাহিদাও বাড়ছে।
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)