দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। একই পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো, কোথাও শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭৭ হাজার ৬৭২ জন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১৪২ জন।
মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্টে মারা গেছেন ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে। মৃতদের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগেই ১১৩ জন; খুলনা বিভাগে ৪৫, চট্টগ্রামে ২৩, ময়মনসিংহে ২০, বরিশালে ১৮, রাজশাহীতে ১৪, রংপুরে ৫ এবং সিলেটে একজন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার বলেন, “আমাদের পূর্বাভাসভিত্তিক মডেল বলছে, অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।” তাঁর মতে, এডিস মশা শুধু দিনে কামড়ায়, এ ধারণাও ঠিক নয়; পরীক্ষায় দেখা গেছে এডিস রাতেও কামড়াতে পারে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত কাউকে কামড়ানোর পর এডিস মশার ভাইরাস ছড়ানোর সক্ষমতা তৈরি হতে অন্তত দুই দিন লাগে। তাই পরিবারের একজন আক্রান্ত হওয়ার কয়েক দিন পর অন্যদেরও ডেঙ্গু হতে পারে; কেউ আক্রান্ত হলে ঘরের ভেতর থেকে মশা দূর করার ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন তিনি।
চিকিৎসকেরা বলছেন, মৌসুমি জ্বর-সর্দির সঙ্গে ডেঙ্গুর শুরুর উপসর্গে মিল থাকায় অনেকে সাধারণ জ্বর ভেবে পরীক্ষা না করে সময় নষ্ট করেন, এতে পরে জটিলতা দেখা দিতে পারে। জ্বর ও সর্দি-কাশির রোগীর চাপ বেড়েছে, শিশু ও প্রবীণদের মধ্যে প্রভাব বেশি, কারও কারও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ডাবের খোসা, ফুলের টব বা পলিথিনে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে।
ছবি: US Department of Agriculture / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: নাগরিক টেলিভিশন



মন্তব্য
(০)