প্রজন্মের পর প্রজন্ম চেক প্রজাতন্ত্রের ব্রনো শহরে ট্রাক্টর বানানো জেটর (Zetor) স্বীকার করে নিয়েছে, সেখানে আর প্রতিযোগিতামূলক দামে ট্রাক্টর তৈরি ও সংযোজন সম্ভব নয়। বাকি থাকা ৩০ জনের মতো সংযোজন শ্রমিক চলতি অর্ডার শেষ করলেই উৎপাদন সরে যাবে ভারতে, পরে চীনে।
প্রধান নির্বাহী রবার্ট হারমান (Robert Harman) দায়ী করেছেন উচ্চ জ্বালানি মূল্য, শ্রম ব্যয় আর সবচেয়ে বেশি কাঁচামালের খরচকে। তাঁর কথায়, ১৩০ অশ্বশক্তি পর্যন্ত ট্রাক্টরের বাজার তাঁরা ছাড়ছেন না—বেশির ভাগ প্রতিযোগীর মতো তাঁরাও শুধু ইউরোপে আর ট্রাক্টর বানাবেন না। ভারত ও চীনে কাঁচামাল ৩০–৩৫ শতাংশ সস্তা, তাতে চূড়ান্ত দামে অন্তত ২৫–৩০ শতাংশ সাশ্রয় হবে বলে তাঁর হিসাব।
জেটরের ছোট ও মাঝারি ট্রাক্টরের মূল যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীরা আগেই এশিয়ায় চলে গেছে—সামনের অ্যাক্সেল ও ট্রান্সমিশনে কারারো, ট্রান্সমিশনে জেডএফ, হাইড্রলিক হিচে মিতা ওলেওদিনামিকা, কেবিনে ফ্রিটজমায়ার আর ইঞ্জিনে ডয়েটজ। তাই যন্ত্রাংশ ইউরোপে ফিরিয়ে এনে সংযোজনে ‘আর অর্থনৈতিক যুক্তি নেই’, বলেন হারমান।
প্রক্সিমার জায়গায় আসা নতুন ১০২–১২২ অশ্বশক্তির ৫-সিরিজ আনা হচ্ছে তুরস্কের নির্মাতা হাত্তাত (Hattat) থেকে। জেটরের সদর দপ্তর, প্রকৌশল, বিক্রয়, সেবা ও যন্ত্রাংশ বিভাগ ব্রনোতেই থাকবে।
ভারতে কোম্পানির আগে থেকেই আছে ভিএসটি টিলার্স ট্র্যাক্টরসের (VST Tillers Tractors) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ জেটর ইন্ডিয়া; চীনে উৎপাদন অংশীদার খোঁজার পাশাপাশি উৎপাদনে স্বাধীনতা রাখতে এশিয়ায় নিজস্ব কারখানাও প্রস্তুত করছে তারা। ২০২৫ সালে জেটর ১,৫০০টি ট্রাক্টর বানিয়েছে, মূলত আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির জোরে; লক্ষ্য পাঁচ বছরের মধ্যে ভারত থেকে বছরে ৫,০০০ ট্রাক্টর রপ্তানি, চীনের জন্যও একই রকম লক্ষ্য।
দক্ষিণ এশিয়ার ছোট ও মাঝারি ট্রাক্টরের ক্রেতাদের জন্য খবরটি তাৎপর্যপূর্ণ: একটি ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের ১৩০ অশ্বশক্তির নিচের পুরো সিরিজ এখন ভারতে তৈরি হবে, আর সেখান থেকে রপ্তানিই ঘোষিত লক্ষ্য। ফার্মার্স উইকলির জন্য প্রতিবেদনটি করেছেন পিটার হিল (Peter Hill)।
সূত্র: Farmers Weekly


মন্তব্য
(০)