যুক্তরাষ্ট্রের বিপন্ন প্রজাতি আইনের (এন্ডেঞ্জারড স্পিশিস অ্যাক্ট, ইএসএ) আওতায় বালাইনাশক ব্যবহারে নতুন শর্ত কার্যকর হচ্ছে। এর মধ্যে কৃষিকাজ আর বিপন্ন প্রাণী রক্ষা কীভাবে একসঙ্গে চলতে পারে, তা খামারে দাঁড়িয়ে দেখতে ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর মিনেসোটা ও সাউথ ডাকোটায় তৃতীয় বার্ষিক ইএসএ ফার্ম ট্যুরে অংশ নেন প্রায় ৪০ জন।
প্রতি বছর সফরটি আয়োজন করে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব ইনডিপেনডেন্ট ক্রপ কনসালট্যান্টস (এনএআইসিসি), উইড সায়েন্স সোসাইটি অব আমেরিকা (ডব্লিউএসএসএ) ও ফাউন্ডেশন ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যাগ্রিকালচার এডুকেশন। এবার ছিলেন মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ), মার্কিন ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস, মার্কিন কৃষি বিভাগ, সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউদার্ন মিনেসোটা বিট সুগার কো-অপারেটিভের প্রতিনিধিরা।
সফর শুরু হয় মিনেসোটার জ্যাসপারের কাছে স্প্লিট রক ক্রিক স্টেট পার্কে। সেখানে বিপন্ন ছোট মিঠাপানির মাছ টোপেকা শাইনারের আবাস পুনরুদ্ধার নিয়ে আলোচনা হয়, আর অংশগ্রহণকারীরা একটি 'বালাইনাশক ব্যবহার সীমিত এলাকা' হেঁটে দেখেন, পাশের চাষের জমির জন্য যার মানে কী। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা মাটির স্বাস্থ্য ও ক্ষয় রোধের কাজ তুলে ধরেন, আর বিট চিনি সমবায় জানায় আগাছা ও রোগের সমস্যা এবং ফসল পর্যায়ক্রম কীভাবে মাটিক্ষয় কমাতে পারে।
দ্বিতীয় দিনে দলটি সাউথ ডাকোটার ইরোকোয়ার কাছে ডেভিড ও বেঞ্জি হিবার্টের শস্য ও পশুপালন খামারে যায়, যেখানে পালাক্রমে চারণ ও আচ্ছাদন ফসলে মাটির স্বাস্থ্য ও পানির মান ভালো হয়েছে। এরপর উড়োজাহাজে স্প্রের প্রদর্শনী হয়, আর ব্রুকিংস বিমানবন্দরে পাইলটরা দেখান, স্পর্শকাতর এলাকা এড়াতে তাঁরা কোন নিয়ন্ত্রণ ও মানচিত্র প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা হয় নির্ভুল কৃষি নিয়ে, যার মধ্যে আছে বিদ্যুৎ দিয়ে আগাছা মারার যন্ত্র ও প্রয়োজনমতো পরিমাণে নাইট্রোজেন প্রয়োগ।
উইসকনসিনের ইনডেপথ অ্যাগ্রোনমির ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ ও এনএআইসিসির সদস্য স্টিভ হফম্যান বলেন, সফরের খোলামেলা আলোচনায় তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে বালাইনাশকের নতুন ইএসএ শর্ত কৃষকের মাঠে বাস্তবায়নে ফসল পরামর্শকদের বড় ভূমিকা আছে। ডব্লিউএসএসএর নির্বাচিত সভাপতি ডন রেফসেল বলেন, এমন সফর নিয়ন্ত্রক, গবেষক ও কৃষককে একসঙ্গে কাজের উপায় খুঁজতে সাহায্য করে।
কৃষকের জন্য বাস্তব প্রশ্ন হলো, তালিকাভুক্ত বিপন্ন প্রাণীর আবাসের কাছে কখন, কোথায় ও কীভাবে বালাইনাশক দেওয়া যাবে, ইএসএ সুরক্ষা তাতে যে সীমা টানে। আয়োজকেরা মনে করেন, মাঠ পর্যায়ের আলোচনাই সেই সীমাকে বাস্তবসম্মত করার পথ।
ছবি: U.S. Fish and Wildlife Service Midwest Region / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)