২০২৬ সালের ১ অক্টোবর Corteva (কর্টেভা) থেকে আলাদা হয়ে যে বীজ ও জেনেটিক্স কোম্পানি যাত্রা শুরু করছে, সেই Vylor (ভাইলর) নিশ্চিত করেছে, তাদের হাইব্রিড গম ২০২৭ সালের শেষে উত্তর আমেরিকার কৃষকের হাতে পৌঁছাবে। প্রযুক্তিটির ভিত্তি Xpedite (এক্সপিডাইট) — হাইব্রিড বীজ তৈরির নিজস্ব, নন-জিএমও পদ্ধতি, যা কোম্পানির দাবি অনুযায়ী পরীক্ষিত গমের শতভাগ জার্মপ্লাজমে কাজ করেছে, যেখানে দশকের পর দশক ধরে জানা সংকরায়ণ পদ্ধতিগুলো পারেনি।
জিনগতভাবে ভিন্ন দুই পিতৃ-মাতৃ সারির সংকরে তৈরি হয় হাইব্রিড বীজ, যা থেকে আসে আরও সহনশীল ও বেশি ফলনের গাছ। ভাইলরের ভাষ্য, বহু বছরের পরীক্ষায় তাদের হাইব্রিড গম একই জমি ও উপকরণে ফলন-সম্ভাবনা প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে, খরায় প্রচলিত জাতের চেয়ে বেশি ফলেছে; দানার মান প্রচলিত জাতের সমান, আলাদা যন্ত্র বা ব্যবস্থাপনা লাগে না।
প্রথম পণ্য হবে ২০২৭ সালে উত্তর আমেরিকায় হার্ড রেড উইন্টার গম, এরপর ২০২৯ সালে সফট রেড উইন্টার ও ২০৩০ সালে হার্ড রেড স্প্রিং, পরে অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণ। কোম্পানির প্রত্যাশা, প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এই প্রযুক্তি ২০৪০ সালের মধ্যে গমের বার্ষিক জিনগত অগ্রগতির হার দ্বিগুণ করবে।
বিশ্বে প্রায় ৫৫ কোটি একরে এবং উত্তর আমেরিকায় ৬ কোটি একরের বেশি জমিতে গম হয় — সেখানে এটি তৃতীয় বৃহত্তম সারি-ফসল — আর মানুষের খাওয়া ক্যালরির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জোগায় গম। ভাইলরের হবু প্রধান নির্বাহীর মতে এই সংখ্যাগুলোই বলে দেয় প্রযুক্তিটির প্রভাব কত বড় হতে পারে।
কোম্পানির পূর্বাভাস, লাইসেন্স আয়সহ হাইব্রিড গম থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০ কোটি ও ২০৪০ সালের মধ্যে ১০০ কোটি ডলার আয় আসবে, ভুট্টা ও সয়াবিনের পাশে গম হবে ব্যবসার তৃতীয় স্তম্ভ। ঘোষণাটি বিচ্ছেদের আগে ইন্ডিয়ানাপোলিস থেকে দিয়েছে কর্টেভা, সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী বক্তব্যের প্রথাগত সতর্কবার্তা।
সূত্র: American Ag Network




মন্তব্য
(০)