ব্রিটেনে সয়াবিন চাষের সবচেয়ে বড় বাধা মাটি বা গ্রীষ্ম নয়, ক্যালেন্ডার — শরতের বৃষ্টি নামার আগেই ফসল পাকতে হবে। Corteva Agriscience (কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স) মনে করছে জিন সম্পাদনায় সেই বাধা কাটতে পারে। ওয়ারউইকশায়ারের Wellesbourne (ওয়েলসবোর্ন) পরীক্ষাক্ষেত্রে ক্রিসপার-ক্যাস প্রযুক্তিতে আগাম ফুল ধরার জন্য সম্পাদিত গাছে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শুঁটি এসে গেছে, অথচ যে দেরিতে পাকা মূল জাত থেকে সেগুলো এসেছে, তাতে তখনও ফুল ফুটছে।
কাজটি ফরাসি গবেষণা প্রতিষ্ঠান INRAE (ইনরা)-র সঙ্গে পাঁচ বছরের যৌথ গবেষণার অংশ, প্রাথমিক কাজের বড় অংশ করেছেন পিএইচডি গবেষক Manon Monfort (মানোঁ মঁফোর)। কর্টেভার ইউরোপ প্রজনন জোটের প্রধান ড. Frank Röber (ফ্রাঙ্ক রোবার) ফার্মার্স উইকলিকে বলেন, মাঠের প্রথম ফল প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে।
সয়াবিন ছোট-দিনের উদ্ভিদ: উত্তরের দীর্ঘ গ্রীষ্মদিন ফুল আসা পিছিয়ে দেয়, পাকার সময় ঠেলে দেয় ভেজা শরতে। তাই ব্রিটেনের দরকার খুব আগাম পাকা '০০' বা '০০০' জাত, যেগুলোর ফলন সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের দেরিতে পাকা জাতের চেয়ে কম। কর্টেভার কৌশল হলো ফুল আসা দমিয়ে রাখা জিনগুলো সম্পাদনা করে দেরিতে পাকা জাতের ফলন-সম্ভাবনা আগাম পাকা গাছে নিয়ে আসা।
কোম্পানির জিনোম-সম্পাদনা নীতির প্রধান ড. Nancy Podevin (ন্যান্সি পোদেভাঁ) বলেন, মাঠ পরীক্ষা অপরিহার্য, আর ইংল্যান্ডের ২০২৩ সালের জেনেটিক টেকনোলজি (প্রিসিশন ব্রিডিং) আইন ও ২০২৫ সালের বিধি গবেষণা পরীক্ষার জন্য ডেফরার ছাড়পত্রের মাধ্যমে সেটা সম্ভব করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন জিনোমিক কৌশলের কাঠামো ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কার্যকর হলেও মূল বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে ২০২৮ সালের জুলাই থেকে; কর্টেভার মতে মাঠ গবেষণার জন্য তাই ইংল্যান্ডের পথই এখন সহজতর।
পরের পরীক্ষা হলো আগাম পাকার সঙ্গে ফলন, রোগ প্রতিরোধ আর নির্ভরযোগ্য কাটাই মেলানো, কারণ বিদ্যমান আগাম জাতে প্রায়ই ফলন কম হয়। কর্টেভা সয়াবিনকে ব্রিটেনের কার্যকর বিকল্প ফসল ও দেশি প্রোটিনের উৎস হিসেবে দেখছে — রাইজোবিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন স্থিরীকরণ আর ফসলচক্রে বৈচিত্র্য যার বাড়তি সুবিধা — তবে বাণিজ্যিক চাষ নির্ভর করবে কৃষিতাত্ত্বিক ও আইনি, দুই বাধাই পেরোনোর ওপর।
সূত্র: Farmers Weekly




মন্তব্য
(০)