যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জুন থেকে দেশটির কৃষক, খামারি ও কৃষিজমির মালিকদের কাছে তাঁদের জমিতে চলা সংরক্ষণ কাজের বিস্তারিত হিসাব চাইতে শুরু করেছে। এই জরিপের ফল দিয়েই দেশটির কৃষি ও পরিবেশ কর্মসূচির দিক ঠিক করার কথা।
কাজটি কনজারভেশন ইফেক্টস অ্যাসেসমেন্ট প্রজেক্টের (সিইএপি) জরিপ, যা ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (এনএএসএস) চালাচ্ছে ইউএসডিএর ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন সার্ভিসের (এনআরসিএস) সঙ্গে মিলে। সারা দেশে প্রায় ২৩ হাজার খামারি এটি পাবেন।
এনএএসএস প্রশাসক জোসেফ পারসনস বলেন, “জরিপের উত্তর দেওয়ার মধ্য দিয়ে কৃষকরা তাঁদের ফসলি জমির সংরক্ষণ কাজের সবচেয়ে নির্ভুল চিত্রটি তুলে ধরার সুযোগ পান।” তাঁর ভাষায়, এই প্রকল্পের তথ্য “এমন কর্মসূচি সাজাতে সাহায্য করবে যা কৃষকের জীবিকা যেসব প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর দাঁড়িয়ে, সেগুলোকে রক্ষা করে।”
জাতীয় জরিপ হিসেবে প্রশ্নপত্রটি অস্বাভাবিক রকম বিস্তারিত। এতে জানতে চাওয়া হয় খামারের উৎপাদন পদ্ধতি; রাসায়নিক, সার ও গোবর প্রয়োগ; চাষ বা টিলেজ; সেচের ব্যবহার; এবং জমিতে আগে থেকেই বসানো সংরক্ষণ কাঠামো ও পদ্ধতির কথা।
মাঠপর্যায়ের কাজ চলবে তিন ধাপে। ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট ডিপার্টমেন্টস অব অ্যাগ্রিকালচারের স্থানীয় প্রতিনিধিরা খামার ও জমি ঘুরে দেখে ঠিক করবেন কোনগুলো জরিপের যোগ্য। যোগ্যদের কাছে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে জরিপের প্রশ্ন যাবে। এরপর এনএএসএস তথ্য তুলে দেবে এনআরসিএসের হাতে, যারা তা বিশ্লেষণ করে সিইএপি ক্রপল্যান্ড অ্যাসেসমেন্টসে প্রকাশ করবে।
এই মূল্যায়নে দেখা হয় চাষের জমিতে সংরক্ষণ পদ্ধতি আসলে কতটা কাজে এসেছে; এবারেরটি হবে তৃতীয় জাতীয় ও আঞ্চলিক মূল্যায়ন। এনএএসএসকে দেওয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গোপনীয় এবং কেবল সমষ্টিগত আকারে প্রকাশ করা হয়, যাতে আলাদা করে কোনো খামারকে চেনা না যায়।
দূর থেকে দেখলে পদ্ধতিটিই লক্ষ করার মতো। মন্ত্রণালয় কতগুলো প্রকল্পে টাকা দিয়েছে তা না গুনে বড় একটি নমুনার কৃষকদের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া তাঁরা কোন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন — এভাবেই যুক্তরাষ্ট্র মাপে তাদের সংরক্ষণ ব্যয় মাঠে আদৌ কিছু বদলাচ্ছে কি না। মাটি বা পানি নিয়ে কর্মসূচি আছে এমন প্রতিটি দেশকেই এ প্রশ্নের জবাব দিতে হয়।
সূত্র: ইউএসডিএ ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস





মন্তব্য
(০)