পুনরুৎপাদনশীল কৃষিতে প্রায়ই শোনা যায় "কম্পোস্ট চা"-র কথা। এটি আসলে পানি দিয়ে তৈরি কম্পোস্ট থেকে অণুজীব বের করে এনে মাটিতে দেওয়ার একটি পদ্ধতি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার চিকো স্টেট ইউনিভার্সিটি ফার্মে গিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে Morning Ag Clips; সঙ্গে ছিলেন পুনরুৎপাদনশীল কৃষিতে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও খামারের জৈব সবজি ইউনিটের শিক্ষানবিশ ডেকলান র্যামজি-ম্যালোন।
শুরুটা ভালো কম্পোস্ট দিয়ে। প্রতিবেদনে একে বলা হয়েছে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীবে ভরা একটি জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র। খামারে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ সবুজ উপাদান আর কার্বনসমৃদ্ধ শুকনো বাদামি উপাদানের ভারসাম্য রাখা হয়, স্তূপ এমনভাবে উল্টানো হয় যাতে রোগজীবাণু ও আগাছার বীজ নষ্ট করার মতো তাপ ওঠে; তারপর রোদ, বাতাস ও বৃষ্টি থেকে আড়ালে রেখে আর্দ্রতা দেখে দেখে পাকানো হয়।
তৈরি কম্পোস্ট পানিভর্তি একটি ব্রুয়ারে রাখা হয়, বাতাসের বুদবুদ তা নাড়াতে থাকে, ফলে অণুজীব কম্পোস্ট থেকে পানিতে চলে আসে। খামারে শহরের ক্লোরিনযুক্ত পানি ব্যবহার হয় বলে আগে পানিতে বাতাস দিয়ে ক্লোরিন উড়িয়ে দেওয়া হয়। কঠোর অর্থে খামারটি তৈরি করে কম্পোস্ট নির্যাস: প্রচলিত কম্পোস্ট চায়ে অণুজীব বাড়াতে বাড়তি খাবার দেওয়া হয়, আর নির্যাসে শুধু পানি ও নাড়াচাড়া।
নির্যাসটি মাটিতে ঢেলে বা সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া হয়, ডুবো পাম্প দিয়ে লাইনে পাঠিয়ে। ড্রিপ পাইপ যাতে না আটকায়, সে জন্য ছেঁকে নেওয়া হয়, আর অবশিষ্ট কঠিন অংশ আবার কম্পোস্টের স্তূপে ফেরে। চাষের মতো মাটি নাড়াচাড়ার পরে এবং ফসল বাড়ার সময় এটি দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী লক্ষ্য শুধু পুষ্টি যোগ করা নয়, মাটির খাদ্যজালকে, বিশেষ করে ছত্রাকের কাজকে সহায়তা করা। মাটির অণুজীব পচন, পুষ্টির চক্র ও মাটির গঠনে ভূমিকা রাখে, যা পানি ঢোকা ও ধরে রাখার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। রাসায়নিক সার যেখানে গাছকে নির্দিষ্ট পুষ্টি দেয়, কম্পোস্ট ও জৈব উপাদানের প্রশ্ন হলো মাটির জীবন্ত ব্যবস্থাকে কীভাবে সহায়তা করা যায়।
ছবি: Forprajeesh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Morning Ag Clips





মন্তব্য
(০)