লাউয়াছড়া, সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা, আদমপুর, কাপ্তাই, হাজারিখিল, এক যুগের বেশি সময় ধরে নানা বনে যে প্রজাপতির খোঁজ করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি ও বন্য প্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ আ ন ম আমিনুর রহমান, তার দেখা মিলেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখার মাধবকুণ্ডে। প্রথম আলোয় তিনি লিখেছেন সেই খোঁজের গল্প।
২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মাধবকুণ্ডে গাইড রাসেল দেববর্মা প্রথম প্রজাপতিটি দেখান, কিন্তু ক্যামেরার শাটারে চাপ দেওয়ার আগেই সেটি উড়ে যায়। ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর আবার মাধবকুণ্ডে যান তিনি। দুপুরের আগে পরীকুণ্ডে ফিরতেই সঙ্গী ইকবাল বাবু জানান, প্রজাপতিটি মাটিতে বসে আছে। চঞ্চল পতঙ্গটির প্রথম ছবি তুলতে লাগে তিন মিনিট; সেদিন তিনি মোট ১০ প্রজাতির নতুন প্রজাপতির ছবি পান।
প্রজাপতিটি এ দেশের বিপন্ন ‘মহি সীমান্ত’, পশ্চিমবঙ্গে যার নাম কাগজি, ইংরেজিতে কমন ম্যাপ বা ম্যাপউইং। নিম্ফালিডি গোত্রের এই প্রজাপতির বৈজ্ঞানিক নাম Cyrestis thyodamas। ডানার সূক্ষ্ম রেখাগুলো মানচিত্রের অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের মতো দেখায়, তাই এমন নাম। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং জাপানে এটি দেখা যায়।
মাঝারি আকারের এই প্রজাপতির ডানার বিস্তার ৫০ থেকে ৬০ মিলিমিটার। আধা স্বচ্ছ সাদা ডানায় লম্বালম্বি গাঢ় বাদামি বা কালো ঢেউখেলানো রেখা, প্রান্তে ছোট কমলা ও কালো চোখের মতো নকশা। পুরুষের ডানার নিচটা ফ্যাকাশে সাদা, স্ত্রীরটা কালো শিরাসহ ফ্যাকাশে হলদে।
এরা শীতল, আর্দ্র ও ছায়াঘেরা বনের বাসিন্দা: সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনের ঝরনা, পাথুরে ছড়া ও স্যাঁতসেঁতে বনপথের কাছে থাকে। চিলের মতো ধীরে ওড়ে, পানির কাছে বসে, ফুলে তেমন আগ্রহ নেই।
সারা বছর প্রজনন করতে পারে। স্ত্রী প্রজাপতি বট, ডুমুর, অশ্বত্থসহ বটজাতীয় গাছের পাতার নিচে একটি করে গম্বুজাকৃতির ডিম পাড়ে। ৩ থেকে ৫ দিনে শূককীট বের হয়, ১২ থেকে ১৮ দিনে পাঁচবার খোলস বদলে মূককীট হয়, তার ৭ থেকে ১০ দিন পর পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি। বয়স্ক প্রজাপতি বাঁচে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ; তাপমাত্রা ও জলবায়ুভেদে পুরো জীবনচক্র ৬ থেকে ১০ সপ্তাহের।
ছবি: Vinayaraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)