পাকা ভুট্টা বা সয়াবিনের ছাউনি ছাড়িয়ে যে আগাছা মাথা তোলে, তা এ বছরের ফলনে বিশেষ ক্ষতি করে না; কিন্তু তার ঝরানো বীজই আগামী বছরের লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা এক্সটেনশন সারিফসল চাষিদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, ফসল কাটার মৌসুম আগাছা ব্যবস্থাপনার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়—বীজ কমানোর জন্যও, আর কোথায় সমস্যা আছে তা লিখে রেখে পরের মৌসুমের পরিকল্পনার জন্যও।
মৌসুমজুড়ে নিয়ন্ত্রণ শুরু হয় চারা গজানোর আগে প্রয়োগের আগাছানাশক দিয়ে, যা পরবর্তী প্রয়োগের জন্য সময় করে দেয়, লিখেছেন এক্সটেনশন শিক্ষাবিদ জ্যাকি এস্ট্রেম (Jackie Estrem)। আগাছানাশক-প্রতিরোধী আগাছা ক্রমেই সাধারণ হয়ে উঠছে, তাই আগাছা ছোট থাকতেই, লেবেলে লেখা মাত্রায়, একাধিক কার্যকর ক্রিয়াপদ্ধতির মিশ্রণে স্প্রে করা উচিত; ফসলচক্র অনুমতি দিলে পরের প্রয়োগে আলাদা ক্রিয়াপদ্ধতির অবশিষ্ট-ক্রিয়ার আগাছানাশক মেশালে দমন আরও দীর্ঘায়িত হয়।
কাটার সময় যে আগাছা থাকে, তা হয় আগাছানাশকের কার্যকাল শেষ হওয়ার পর গজিয়েছে, নয়তো ভুল সময়ের প্রয়োগ বা প্রতিরোধের কারণে বেঁচে গেছে। যেভাবেই হোক, তাদের জীবন্ত বীজ তৈরি করতে দিলে সেই বদ-গুণ পরের প্রজন্মে যায়। একটি গাছই হাজার থেকে দশ হাজার বীজ ঝরাতে পারে।
খেতের কিনারার সারিতে ঘন আগাছা মানে সীমানায় বীজদাতা গাছ বেশি। বীজ পরিপক্ব হওয়ার আগে কিনারা ছেঁটে দিলে খেতের ভেতরে আগাছার অনুপ্রবেশ কমে; আর আগাছা বিভিন্ন সময়ে পাকে বলে কিছু বীজ তৈরি হয়ে গেলেও ছাঁটাই কাজে আসে।
কম্বাইন হারভেস্টার খেতের ভেতরে ও এক খেত থেকে আরেক খেতে আগাছার বীজ ছড়ানোর কার্যকর যন্ত্র। আগাছা কম থাকলে হাতে তুলে নষ্ট করলে বীজ যন্ত্রে ঢোকে না; পোড়াতে হলে খেতের সীমানার বাইরে পোড়াতে হবে। সবচেয়ে পরিষ্কার খেত আগে আর আগাছাভরা অংশ সবশেষে কাটা উচিত। প্রতিদিন সংকুচিত বাতাসে ধুলা-আবর্জনা ঝেড়ে ফেললে বীজ ছড়ানোও কমে, কম্বাইনে আগুন লাগার ঝুঁকিও কমে।
নতুন প্রযুক্তিতে আগ্রহীদের জন্য কাটার সময়ই আগাছার বীজ গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিড ইমপ্যাক্ট মিল ও সরু চ্যাফ শুট তৈরি হচ্ছে। মৌসুম শেষের পথে হলেও, এস্ট্রেমের ভাষায়, এখনকার সিদ্ধান্তই এ বছরের ফসলের মান আর আগামী বছরের আগাছার আকার ঠিক করে দেবে।
সূত্র: Morning Ag Clips





মন্তব্য
(০)