ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি ড্রেজার ও একটি বাল্কহেডসহ সাতজনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হাঁসের চর সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে বালু তোলার সময় সাতজনকে আটক করা হয় এবং ড্রেজার ও বাল্কহেডটি জব্দ করা হয়। পরে ভোলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে; আটক সাতজনের কাছ থেকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আটক সাতজনের মধ্যে ড্রেজারে ছিলেন মো. জাহাঙ্গীর (২২), মো. মেহেদি হাসান (২২) ও মো. নূর আলম (১৮); বাল্কহেডে ছিলেন আব্দুল বাসেত (৪৫), মো. সুমন (২০), মো. নূমান (১৮) ও মো. জসিম হাওলাদার (৪৫)। তাঁরা ভোলা ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
জব্দ করা ড্রেজার ও বাল্কহেড কোস্টগার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এগুলো নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীভাঙন বাড়ছে এবং নদীতীরবর্তী মানুষের ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়ছে; এসব রক্ষায় কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে।
ভোলার চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এই অভিযানের তাৎপর্য বালু বা জরিমানার অঙ্কে নয়, নদীর তীরে। তেঁতুলিয়ার মতো নদীতে অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিং তীরের ভাঙন ত্বরান্বিত করে, আর ভাঙনে প্রথম যায় নদীপাড়ের ফসলি জমি। কোস্টগার্ডের ভাষ্যে সেই সংযোগ স্বীকৃত হওয়ায় বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান এখন কৃষিজমি রক্ষার প্রশ্নও।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)