রোগী কম জানানো হলেও ২০২৫ সালে কলেরায় মৃত্যু ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে ৩০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ৪৭টি দেশ ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৯৯ জন রোগী ও ৭ হাজার ৮৭০ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে, যা ১৯৯৯ সালের পর ডব্লিউএইচওকে জানানো সর্বোচ্চ বার্ষিক মৃত্যু। অনেক রোগী হিসাবের বাইরে থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা।
বাংলাদেশ, অ্যাঙ্গোলা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান ও ইয়েমেন, এই সাত দেশেই জানানো রোগী ও মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশ। আফ্রিকা অঞ্চলে বোঝা সবচেয়ে বেশি: ২০২৪ সালের তুলনায় রোগী ৩৪ শতাংশ ও মৃত্যু ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছে সংস্থাটির সাপ্তাহিক মহামারি রেকর্ডে।
মলমূত্রে দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে কলেরা ছড়ায়। প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্ভব হলেও দ্রুত পানিশূন্যতা সারানো না গেলে এটি প্রাণঘাতী। জানানো মৃত্যুর পাঁচটির একটির বেশি হয়েছে হাসপাতালের বাইরে, অর্থাৎ অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসায় পৌঁছাতে পারেননি। হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের মৃত্যুহার বিশ্বজুড়ে ১ শতাংশের নিচে, তবে ১২টি দেশে তা এর বেশি।
ডব্লিউএইচওর স্বাস্থ্য জরুরি কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক চিকওয়ে ইহেকওয়েজু বলেন, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার উপায় থাকতে আজ কারও কলেরায় মারা যাওয়ার কথা নয়। তিনি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতায় লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের সঙ্গে নজরদারি, টিকা ও চিকিৎসা জোরদারের আহ্বান জানান।
২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে খাওয়ার কলেরা টিকার উৎপাদন দ্বিগুণের বেশি হয়েছে, বছরে প্রায় ৩ কোটি থেকে প্রায় ৮ কোটি ডোজ। গত বছর টিকা সরবরাহের আন্তর্জাতিক সমন্বয় গোষ্ঠী ৭ কোটি ১০ লাখ ডোজ অনুমোদন করেছে, যার ২ কোটি ডোজ প্রতিরোধমূলক টিকাদানের জন্য; তিন বছরের বেশি বন্ধ থাকার পর এ বছর সেই কর্মসূচি আবার শুরু হয়েছে।
ছবি: Tom Kirn, Ron Taylor, Louisa Howard / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)