চীন তাদের সামুদ্রিক খামার (মেরিন র্যাঞ্চিং) প্রকল্প আর গভীর সমুদ্রে মাছচাষের যন্ত্রপাতির প্রকল্প এক করে ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ‘অফশোর র্যাঞ্চিং’ নামে নতুন এক ধরনের প্রকল্প চালু করবে। চীনের কৃষি ও গ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (এমএআরএ) এক কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন।
এই পরিবর্তন প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ‘নীল শস্যভান্ডার’ ধারণার সঙ্গে মিলিয়ে, যেখানে খাদ্য আসবে স্থলের পাশাপাশি সমুদ্র থেকেও। মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, নতুন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ আর মাছচাষ একসঙ্গে চলবে, যার অগ্রাধিকার পরিবেশ, দক্ষ উৎপাদন এবং স্থল ও সমুদ্রের সমন্বয়।
এখন থেকে প্রকল্প শুধু কৃত্রিম প্রবাল প্রাচীর বা চাষের যন্ত্রপাতির মতো আলাদা অংশ নিয়ে হবে না; পুরো মৎস্য খাত এর আওতায় আসবে: পোনা উৎপাদন, উপকূলের কাছে ও গভীর সমুদ্রে চাষ, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন। ছড়িয়ে থাকা ছোট প্রকল্পের বদলে আঞ্চলিক সমন্বয়ে গুচ্ছ আকারে প্রকল্প গড়া হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামুদ্রিক খামার ও গভীর সমুদ্রে চাষের সহায়তা এখন এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমেই যাবে, তবে মোট সহায়তার পরিমাণ বদলাবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলে নির্দিষ্ট সহায়তা নীতি তৈরি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব মাছচাষ ও উপকূলীয় মৎস্যবন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্পে অর্থায়ন চলবে; নতুন অগ্রাধিকার হলো মৎস্যবন্দরে স্মার্ট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বাড়ানো ও মৎস্য খাতের নিরাপত্তা তদারকি জোরদার করা। উপকূলীয় প্রদেশগুলো নিজেদের প্রয়োজনমতো এসব প্রকল্পে সহায়তা দিতে পারবে।
আগের পরিকল্পনার ফলও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালের শেষে চীনের জলজ পণ্যের উৎপাদন ১৩তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষের তুলনায় ১৬.৯ শতাংশ বেড়েছে, মৎস্য খাতের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন বেড়েছে ২৮.৮ শতাংশ, আর জেলেদের মাথাপিছু গড় ব্যয়যোগ্য আয় বেড়েছে ৩১.৩ শতাংশ।
তবে সমস্যাও আছে বলে মেনেছে মন্ত্রণালয়: পণ্যের মান ও নিরাপত্তা, উৎপাদনের নিরাপত্তা, সম্পদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মৎস্য নিয়ম মেনে চলা, সঙ্গে খাতের অসম ও অপর্যাপ্ত উন্নয়ন। তাই খাতকে পথ দেখাতে নীতিগত সহায়তা চালিয়ে যাওয়া দরকার বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদন: আমান্ডা লিম (Amanda Lim), এজিনেভিগেটর।
ছবি: Vmenkov / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgNavigator




মন্তব্য
(০)