চীনের কৃষিতে দ্রুত বাড়ছে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশাল আবাদি জমিতে কাজ করছে কৃষি ড্রোন, মাটি ও পরিবেশের তথ্য সংগ্রহকারী সেন্সর এবং স্বয়ংক্রিয় কৃষিযন্ত্র। বীজতলা প্রস্তুত থেকে ফসল ঘরে তোলা এবং শুকিয়ে সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এতে মাঠের কায়িক শ্রম ও সময় কমেছে।
এই রূপান্তর সবচেয়ে দৃশ্যমান হুনান প্রদেশে। সেখানে চারা তৈরিতে পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত স্মার্ট গ্রিনহাউস ব্যবহার হচ্ছে। বালাইনাশক ছিটানো, সার প্রয়োগ, বীজ বপন থেকে শুরু করে ধান কাটার মতো কাজেও উড়ছে বিশেষায়িত কৃষি ড্রোন। জমির তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মাটির উর্বরতা সার্বক্ষণিক নজরে রাখতে বসানো হয়েছে স্মার্ট সেন্সর।
চার বছরের বেশি সময় ধরে কৃষি ড্রোন চালানো এক অপারেটর জানান, গত সাড়ে চার বছরে তিনি ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে কাজ করেছেন এবং মোট ৪ হাজার ৪২টি সফল ড্রোন ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। প্রযুক্তিতে কৃষি লাভজনক ও সহজ হওয়ায় শিক্ষিত তরুণেরাও গ্রামে ফিরে কৃষিতে যুক্ত হচ্ছেন।
ফসল-পরবর্তী ধাপেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আর্দ্রতায় ধান নষ্ট হওয়া ঠেকাতে হুনানে ৫ হাজার ২০০ বর্গমিটারের একটি আধুনিক ড্রায়িং কেন্দ্র গড়া হয়েছে। সেখানে ৩০ টন ধারণক্ষমতার ২০টি ড্রায়িং মেশিনে দিনে প্রায় ৬০০ টন ধান শুকানো যায়। বর্ষায় ভেজা ধান পচে বা ফেটে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রিত তাপ ও বাতাসে শুকানোর ফলে প্রায় দূর হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হুনানের কাজংপিং এলাকা পরিদর্শন করেন, আর সেই নীতিগত উৎসাহের পর অঞ্চলটিতে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রয়োগ গতি পেয়েছে।
ছবি: 刻意 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি




মন্তব্য
(০)