জিন সম্পাদনার সূক্ষ্ম পদ্ধতি প্রাইম এডিটিং ব্যবহার করে চীনের বিজ্ঞানীরা এমন ধান তৈরি করেছেন, যার চালে অ্যামাইলোজ কম এবং রান্নার পর ভাত নরম ও খেতে ভালো। আইএসএএএর বরাতে ৫ অক্টোবর এ খবর দিয়েছে এগ্রোপেজেস; গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মলিকুলার সায়েন্সেসে।
সমস্যাটা কী: চালের শ্বেতসারের একটি উপাদান অ্যামাইলোজ, যা ভাত কেমন হবে তা অনেকটাই ঠিক করে, আর এর উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াক্সি (Wx) জিন। জিনটি পুরো বন্ধ করে দিলে চাল হয় অতিরিক্ত আঠালো, বিন্নি ধানের মতো।
কীভাবে কাজ করে: গবেষকেরা জিনটি না ভেঙে এর প্রমোটার, অর্থাৎ যে অংশ ঠিক করে জিনটি কতটা সক্রিয় থাকবে, সেখানে নির্দিষ্ট পরিবর্তন আনেন। এতে দুটি নতুন ধানের লাইন পাওয়া গেছে, যাদের অ্যামাইলোজ ৩.৯৫ শতাংশ বিন্দু পর্যন্ত কম। গবেষণাগারে এসব চালের জেল দীর্ঘ, সান্দ্রতা ভাঙার মাত্রা বেশি এবং যন্ত্রে মাপা স্বাদের মান ভালো এসেছে, যা নরম ও সুস্বাদু ভাতের লক্ষণ।
মাঠে পরীক্ষায় মূল জাতের সঙ্গে সম্পাদিত ধানের মাপা কৃষি বৈশিষ্ট্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা করা ৩,০৩২টি ধানের জাতের কোনোটিতেই এই দুটি সম্পাদিত প্রমোটার পাওয়া যায়নি, অর্থাৎ প্রকৃতিতে সহজে মেলে না এমন জিনরূপ তৈরি হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ: মানুষের স্বাদ পরীক্ষা ও আরও মাঠ পরীক্ষা এখনো বাকি, তবে গবেষণাটি দেখাচ্ছে, প্রাইম এডিটিং দিয়ে জাত উন্নয়নকারীরা ভাতের রান্না ও খাওয়ার মান আরও নিখুঁতভাবে ঠিক করতে পারবেন; এশিয়ার অনেক বাজারে চালের দাম এই মানের ওপরই নির্ভর করে।
ছবি: IRRI Images / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: AgroPages



মন্তব্য
(০)