কানে সংক্রমণ বা কান পাকা শিশুদের সাধারণ একটি স্বাস্থ্যসমস্যা, বিশেষ করে ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সীদের মধ্যে। সময়মতো শনাক্ত করে সঠিকভাবে সামলালে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, বলছেন ময়মনসিংহের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শিশু ও নবজাতকবিশেষজ্ঞ ডা. মানিক মজুমদার।
বারবার কানে হাত দেওয়া বা কান টানা, যেসব শিশু ব্যথার কথা বলতে পারে না তাদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। অস্বাভাবিক খিটখিটে ভাব বা কান্না, বিশেষত শুয়ে থাকলে বেড়ে যাওয়া, একটি বড় লক্ষণ, কারণ শোয়া অবস্থায় কানের ভেতরের চাপ বাড়ে। জ্বর, ঘুমে ব্যাঘাত, খেতে না চাওয়া এবং কান থেকে তরল বা পুঁজ পড়াও সাধারণ লক্ষণ।
শিশুদের কানের গঠনই এর মূল কারণ। কান ও গলার সংযোগনালি ইউস্টাশিয়ান টিউব শিশুদের ছোট, সরু ও প্রায় সমান্তরাল থাকে, ফলে গলা বা নাকের সংক্রমণ সহজেই কানে পৌঁছায়। সর্দি-কাশির পর কানের সংক্রমণ খুব সাধারণ; শুইয়ে বোতলে দুধ খাওয়ানো, সিগারেটের ধোঁয়া, ডে-কেয়ারে থাকা ও পারিবারিক ইতিহাস ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রথমে ব্যথা কমানোর দিকে নজর দিতে হবে; চিকিৎসকের পরামর্শে বয়স ও ওজন অনুযায়ী ব্যথানাশক দেওয়া যায়, বাইরে থেকে গরম সেঁক সাময়িক আরাম দেয়। পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার দিন, খাওয়ানোর সময় শিশুকে সোজা করে বসান। কানে তুলা বা কটন বাড দিয়ে খোঁচাবেন না, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তেল বা ড্রপ দেবেন না।
তীব্র জ্বর থাকলে বা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় উন্নতি না হলে, কান থেকে পুঁজ বা রক্তমিশ্রিত তরল বের হলে, শিশু ঝিমিয়ে পড়লে বা খেতে না চাইলে, কানের চারপাশ ফুলে বা লাল হয়ে গেলে, কিংবা শুনতে সমস্যা বা ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তিন মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর হলে দেরি না করে শিশুবিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে। বারবার সংক্রমণ শ্রবণশক্তি ও ভাষা বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
ছবি: U.S. Navy / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)