ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম রেজাউল কিবরিয়া বাবুল গত ৩৪ বছর ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়কের দুই পাশে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা লাগিয়ে আসছেন। কৃষি সময়ের ভোলা সংবাদদাতার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি ও নিজের সঞ্চয়ের টাকায় তিনি একটি নার্সারি গড়ে তুলেছেন, যেখানে চারা উৎপাদন করে বড় করার পর সড়কের ধারে রোপণ করেন।
ইমামের হিসাবে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছেন। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ তাঁরই লাগানো; গ্রামের আরও চারটি সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু তালগাছ নয়, বছরের পর বছর পরিচর্যায় তাঁর লাগানো ফলদ ও ঔষধি গাছগুলো এখন বড় হয়ে ছায়া দিচ্ছে; গাছের ছায়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন পথচারী ও কৃষকেরা। সারি সারি তালগাছ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ইহকাল ও পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যেই তিনি প্রায় তিন যুগ ধরে ইমামতির পাশাপাশি রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন। তাঁর ভাষায়, ‘গত বেশ কয়েক বছর ধরে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে, তাই আগামীতে বজ্রপাত থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে তালের বীজ ও চারা লাগানোর ওপর জোর দিয়েছি। মাঝেমধ্যে বন বিভাগ থেকে পরামর্শ নিই।’
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ ইমামের নিজস্ব উদ্যোগে চলা এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপকূলীয় ভোলায় তালগাছকে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে দেখা হয়; সড়কের ধারে ফলদ ও ঔষধি গাছ একদিকে গ্রামীণ সড়কের চেহারা বদলে দিয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক ও পথচারীদের ছায়া ও নির্মল বাতাস দিচ্ছে।
প্রতিবেদন: ভোলা সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)