প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং তাঁদের জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। বৃহস্পতিবার মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন, জানিয়েছে ঢাকা মেইল।
৮ থেকে ২৯ অক্টোবর টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার প্রায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড একসঙ্গে নজরদারি চালাবে।
সভায় অভয়াশ্রমে নদীসংলগ্ন খালের মুখ বন্ধ করা এবং পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসক জানান, নিষেধাজ্ঞায় নদীতে না নামা জেলেরা ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা পাবেন; জেলায় এ সহায়তা পাবেন ৪১ হাজার ৩৯০ জন। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যাতে ঋণের কিস্তির চাপে না পড়েন, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন বরফকল বন্ধ থাকবে, নদীতে কোনো ড্রেজার চলতে দেওয়া হবে না, আর বাইরে থেকে জেলেরা এসে যাতে মাছ ধরতে না পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর থাকবে। অভয়াশ্রমের গুরুত্বপূর্ণ ৮ থেকে ৯টি খালের মুখ বন্ধের পরিকল্পনা আছে; সড়কে জেলা পুলিশের চেকপোস্ট বসবে এবং সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার জন্য কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, আইন প্রয়োগে ছাড়ের সুযোগ নেই; মেঘনা উপকূলের জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে। ‘ইলিশের বাড়ি’ চাঁদপুরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ঢাকা মেইল




মন্তব্য
(০)