পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জজুড়ে প্রায় ৪৭টি ছোট-বড় বিলের অববাহিকা চলনবিল দেশি মাছের অন্যতম বড় প্রজনন ক্ষেত্র। পলি জমে আর অপরিকল্পিত অবকাঠামোয় বিল সংকুচিত হলেও এখানকার মাছ নিয়মিত বিক্রি হয় পাবনার চাটমোহরের বাজারগুলোতে, সেখান থেকে পাইকাররা নিয়ে যান শহরের বড় বাজারে, প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ভোর না হতেই চাটমোহরের বিভিন্ন মোড়ে অস্থায়ী বাজারে ডালা সাজিয়ে বসেন জেলেরা। জেলের খলসিনা আর দধি জালে আটকা পড়া জ্যান্ত পুঁটির পাশাপাশি ডালায় থাকে শিং, মাগুর, টাকি ও বাইম। মাঝে মাঝে বড় শোল বা চিতলও ওঠে জালে, তবে এখন বিলে সবচেয়ে বেশি মেলে পুঁটি। একসময় হরহামেশা ধরা পড়ত বাগাড়, মধু পাবদা, গজার ও কালবাউশের মতো মাছ।
মো. রাজু হোসেন, মো. আলী ও মো. আবুল কাশেমের মতো জেলেরা সারা রাত কুড়ুলিয়া বিলে খলসিনা, চায়না জাল ও দধি জাল পেতে মাছ ধরেন। ভোরে সেই মাছ ভ্যানে করে বাজারে পৌঁছে দেন চালক মো. ইউনুস আলী। তিনি বলেন, এতে মানুষ তাজা মাছ পায়, জেলেদের বেচাকেনাও ভালো হয়।
কুড়ুলিয়া ১ হাজার ৪৬০ বিঘার সরকারি খাসজমির বিল। বিলের সভাপতি মো. রায়হান আলী জানান, আশপাশের তিন গ্রামের জেলেপাড়ায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি পরিবার বাস করে, যাদের জীবিকা পুরোপুরি বিলের মাছের ওপর নির্ভরশীল।
তবে মাছ কমে যাওয়া নিয়ে জেলেরা শঙ্কিত। রায়হান আলী বলেন, জোলা বা খালের পানি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে বিলের গভীরতা অনেক কমে গেছে। পাঁচ-ছয় বছর ধরে কচুরিপানার উপদ্রব আর আশপাশের কৃষিজমির কীটনাশক মেশানো পানিতে বিলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে মাছের উৎপাদন কমেছে।
ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)