সাধারণত রোপণ করা গাছ হিসেবে পরিচিত পবন ঝাউ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রাকৃতিক আবাসে জন্মাতে দেখা গেছে। প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন প্রথম আলোয় লিখেছেন, ২০২৫ সালে বেপজার (বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ) সীমানাদেয়াল লাগোয়া ইছাখালী এলাকায় তিনি অসংখ্য পবন ঝাউ দেখেন, যেগুলো বীজ থেকে চারা হয়ে জোয়ার-ভাটার পানির প্রতিকূলতা সামলে বুনো পরিবেশ তৈরি করেছে।
গাছটি একসময় বিলাতি ঝাউ নামে পরিচিত ছিল। সামান্য বাতাসেই এর ডালপালায় শোঁ শোঁ শব্দ হয় বলে গ্রামের মানুষ একে পোবন গাছ বলে ডাকে। সেই নাম থেকে লেখক অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মাকে পবন ঝাউ নামটি প্রস্তাব করেন; দ্বিজেন শর্মা নামটি গ্রহণ করে শ্যামলী নিসর্গ গ্রন্থের সর্বশেষ সংস্করণে ব্যবহার করেছেন।
পাইনের সঙ্গে চেহারায় মিল থাকলেও পবন ঝাউয়ের সঙ্গে পাইন বা ঝাউয়ের আত্মীয়তা নেই। দ্বিজেন শর্মার ব্যাখ্যায়, পাইন ও ঝাউ নগ্নবীজ উদ্ভিদ, আর বিলাতি ঝাউ আম বা বকুলের মতো আবৃতবীজ উদ্ভিদ।
পরিণত পবন ঝাউ (Casuarina equisetifolia) সরল, দীর্ঘ গাছ; ৬ থেকে ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। নবীন গাছ পিরামিডাকৃতির, কাণ্ড ধূসর ও অমসৃণ। পাতা প্রায় অদৃশ্য বাদামি রোমে রূপান্তরিত। ফুল খুব ছোট; স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা মঞ্জরিতে থাকে। বছরে দুবার ফুল ফোটে, গ্রীষ্মের শুরুতে ও হেমন্তের শেষে। বীজ হালকা ও বাদামি।
উপকূলীয় জেলা ও সাগরপাড়ে গাছটি বেশি দেখা যায়, দেশের অন্যত্রও বিক্ষিপ্তভাবে আছে। এর কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আর বালুভূমির প্রসার ঠেকাতে পবন ঝাউয়ের বলয় খুব কার্যকর। পথের পাশে, উদ্যানে ও বাড়ির আঙিনায় শোভাবর্ধক গাছ হিসেবেও এটি উপযোগী।
লেখক জানিয়েছেন, ১৯৮৫ সালের দিকে তাঁদের গ্রামের বাড়ির সংযোগ সড়কের দুই পাশে প্রায় ৩০টি ঝাউগাছ লাগানো হয়েছিল, যেগুলো নতুন মাটিতে কয়েক বছরে দ্রুত বেড়ে ওঠে।
ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)