২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে শীতের এক সকালে চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের ক্যাম্পাসে ঢুকলেই চোখে পড়ত রঙিন ফুলের বাগান। কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদারের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা এই বাগানে তখন ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, গোলাপ, জবাসহ কয়েকশ ফুলগাছ ফুটে ছিল। জাগো নিউজ ২৪ সে সময় জানিয়েছিল, জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন পুষ্পশোভিত ক্যাম্পাস খুব কমই চোখে পড়ে। শিক্ষার্থীরা ফুলঘেরা মাঠে আড্ডা দিত, কেউ কেউ মুঠোফোনে ফুলের ছবি তুলত।
ডাকাতিয়ার তীরে একটি বেসরকারি কলেজ
পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ চাঁদপুর সদরের হাজী শরীয়তউল্লাহ সড়কে, ডাকাতিয়া নদীর কোলঘেঁষে অবস্থিত একটি বেসরকারি কলেজ। কলেজের ওয়েবসাইট অনুযায়ী এখানে উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি (পাস) কোর্সের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স পড়ানো হয়।
চাঁদপুর জেলা পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে। ভারতের ত্রিপুরার পাহাড়ি এলাকা থেকে আসা ডাকাতিয়া নদী চাঁদপুরের বড়স্টেশন মোলহেডের কাছে মেঘনায় মিশেছে। ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা থেকে আলাদা হয়ে চাঁদপুর জেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

বাগানে কী কী ফুল ছিল
অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার জাগো নিউজকে জানান, গাছগুলো চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। বাগানে ছিল ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, স্নো-বল, জিনিয়া, সেলভিয়া, হলিহক, গেজানিয়া, গাঁদা, কসমস, বেলি, করবী, জুঁই, দোপাটি, নয়নতারা, বাগানবিলাস, গোলাপ, জবা ও মাধবীলতা। এর মধ্যে বিশ রকমের গোলাপ ও সাত রকমের জবা ছিল, ছিল কিছু ফলের গাছও।
এসব ফুলের অনেকগুলোই বাংলাদেশে শীতের মৌসুমি ফুল। ডালিয়ার আদি নিবাস মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা, ১৯৬৩ সালে একে মেক্সিকোর জাতীয় ফুল ঘোষণা করা হয়। চন্দ্রমল্লিকার আদি নিবাস পূর্ব এশিয়া, এর বৈচিত্র্যের কেন্দ্র চীন, আর এটি হেমন্ত ও শীতের শুরুতে ফোটে। দুটিই সূর্যমুখী পরিবারের (অ্যাস্টারেসি) উদ্ভিদ।


শখ থেকে ক্যাম্পাসের বাগান
অধ্যক্ষ জানান, শৈশব থেকেই তাঁর বাগান করার শখ। অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়ে তিনি ক্যাম্পাসকে দৃষ্টিনন্দন করার পরিকল্পনা করেন। আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের প্রতি আকৃষ্ট করা ও মনোরম পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা। তিনি প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে নিজে বাগানের পরিচর্যা করতেন, এ কাজে একজন মালিও রাখা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, আগে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে বাইরে চলে যেত, এখন তারা ক্যাম্পাসেই থাকে।
শুরুতে তাঁর আশঙ্কা ছিল, ফুল ফুটলে শিক্ষার্থীরা ছিঁড়ে নেবে। কিন্তু তা হয়নি। তিনি বলেন, ‘এখন যে শত শত ফুল ফুটে আছে, আমার কোনো শিক্ষার্থী একটি ফুলও ছেঁড়ে না।’ হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মো. হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, ‘কলেজ ক্যাম্পাসে বাগান করা আরো কষ্টকর। আমাদের অধ্যক্ষ স্যারের আগ্রহে এবং ঐকান্তিক পরিশ্রমে ফুলের বাগান করা সম্ভব হয়েছে।’ শিক্ষার্থী মো. আল আমিন, আবু সুফিয়ান ও কামরুল হাসান জানান, ক্যাম্পাসে এলেই তাঁদের মন জুড়িয়ে যায়।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিমসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরাও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। অধ্যক্ষ তখন জানিয়েছিলেন, প্রতি মাসে নতুন ফুলগাছ আনা হচ্ছে, দুর্লভ ফুলের চারা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং ভবিষ্যতে বাগানের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ছবি: Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের ওয়েবসাইট, এডুপোর্টাল বিডি, উইকিপিডিয়া (চাঁদপুর জেলা, ডাকাতিয়া নদী, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা)





মন্তব্য
(০)